**মূল্যস্ফীতি রোখার সম্ভাব্য পথ**
বাংলাদেশ একটি মন্দার মধ্যে পড়েছে যেখানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে না। অতীতের সরকার এই সমস্যাটি গোপন রাখতে বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়েছে এবং বর্তমান সরকারও এখনও এটি স্বীকার করতে নারাজ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করছে যে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি তা অনুভব করছে?
জুন মাসে একটি অমানবিক বাজেট প্রণয়নের পর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের কারণে মূল্যস্ফীতি এই দুই মাসে কমে আসা সম্ভব নয়। তারপরে আবার এসেছে দুটি মারাত্মক বন্যা এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন দাবিদাওয়ার আন্দোলন। বন্যার ফলে শুধু ফসলহানিই হয়নি, ভেসে গেছে গবাদিপশু এবং মুরগিও সহ অনেক খাদ্যের উৎস। এই পরিস্থিতিতে দেশে খাদ্যের দাম অবশ্যই বাড়বে। এটি হল বর্তমান প্রেক্ষাপট। পুরনো পাপের বোঝাও এখনও কাটেনি।
**কৃষি খাত:** বিগত কয়েক বছরে দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সারের দাম বেড়েছে, বিদ্যুতের অভাবে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কীটনাশক, পশুখাদ্যের খরচ এবং শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। ঢাকায় ব্যাটারি রিকশা চলতে শুরু করায় গ্রামে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও রয়েছে সিন্ডিকেট, যার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে (এখানেও তথ্য চুরি) কৃষিজমি কমছে। নিজেরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলে কীভাবে দাম কমানো সম্ভব? এবং এই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে একটিও কৃষি বিশেষজ্ঞ নেই। দাম কমানোর জন্য দেশকে যে কোনো উপায়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে এবং সারের সরবরাহ ও দাম কমাতে হবে।
**জলবায়ু পরিবর্তন:** আমাদের জলবায়ু দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরম, বর্ষা বা শীতকালেও উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। আগের সরকারের “উন্নয়ন আগে” নীতি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এবারের বন্যায় প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন সবজি এবং খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে। সবজির দাম বাড়বেই। তাহলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকব? অবশ্যই না। অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প বন্ধ করে পরিবেশের জন্য মেগা প্রকল্প নিতে হবে। আবাদি জমিতে বাড়ি তৈরি নিষিদ্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন চুক্তিতে স্বাক্ষর, গঙ্গা ব্যারাজের নির্মাণকাজ শুরু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, খাল-নদী খনন, বন পুনরুদ্ধার এবং গাছ লাগানোর প্রকল্পগুলো আমাদের আগের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার পথে মাইলস্টোন হতে পারে।
**শিল্পে কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা:** দেশি পণ্যের চেয়ে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য সস্তা হওয়ার কারণে দেশে পাচার করা ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিযোগ করা হলে কী হতো? দেশের চেহারা পাল্টে যেত। এই দেশ পোশাক শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এত বছর পরেও তাদেরকে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। তাহলে বাকি শিল্পগুলোর অবস্থা কেমন তা বোঝা যায়। আমাদের দেশের পাট ভারতে গিয়ে পণ্য হয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়। আর আমরা এখনও পলিথিনকে পাটের ব্যাগ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারিনি। একটি দেশ যদি সবকিছুর জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করে, তাহলে তারা কোথায় দাম কমাবে? একবার পোশাক শিল্পের একজন দেখিয়েছিলেন যে দেশে উৎপাদন করার চেয়ে ভারত থেকে আমদানি করা খরচ কম পড়ে। আবার দেশে এতগুলো চিনিকল থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে কেন চিনি আমদানি করতে হচ্ছে? যেখানে আখ চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রবাসীদের মতো ছোট এবং মাঝারি শিল্পগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে উৎপাদনে কাজে লাগানো যেতে পারে।
**পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ:** আগের সরকারের সব দুর্নীতির কারণে দেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। যদিও এ ব্যাপারে এখনও কোনো প্রকল্প পরিচালক বা এলজিইডির কাউকে জবাবদিহি করতে দেখা যায়নি। উপদেষ্টা পরিষদে কোনো প্রকৌশলীই নেই যিনি আঙুল দিয়ে দেখাতে পারবেন এসব সমস্যার সমাধান।
পণ্য, কাঁচামাল ইত্যাদি পরিবহন করতে প্রতিটি ট্রাকে চাঁদা দিতে হয়। পুলিশসহ জড়িত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও এই চাঁদাবাজিতে জড়িত। এই চাঁদাবাজি এখনও অব্যাহত রয়েছে। তেলের দাম বেড়ে গেছে। পথে অতিরিক্ত যানজট। এই দুটি সমস্যা কমাতে হবে। বাংলাদেশের বন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে অদক্ষ বন্দর। বন্দরজটের কারণে প্রতিদিন অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা গচ্চা দিতে হচ্ছে। যতদিন আমাদের সক্ষমতা না আসে, ততদিন অন্য দেশের পণ্য খালাসের চুক্তি বাতিল করতে হবে। আমাদের লাভ না হলেও অতিরিক্ত খরচের দায় মেটাতে হচ্ছে জনগণকেই। সরকার ভেবে দেখ