**এইচএসসির ফলাফল: অটো পাসের চেয়ে ভালো, তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে**
**প্রেক্ষাপট**
করোনার কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়নি। তখন পরীক্ষার্থীদের ‘অটো পাস’ দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হয়েছিল।
এ বছর চলমান ছাত্রআন্দোলনের কারণে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষার পর এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু শিক্ষার্থীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাকি পরীক্ষাগুলি বাতিল করে দেয়। এই সিদ্ধান্তটি সংখ্যাগরিষ্ঠ পরীক্ষার্থীর মতামতের প্রতিফলন কি না, সে বিষয়ে কোনো জরিপ বা বিশ্লেষণ করা হয়নি।
**পাসের হার**
এবার সর্বমোট পাসের হার ৭৭.৭৮%, যা আগের বছরের ৭৮.৬৪% থেকে কিছুটা কম। ২০২২ ও ২০২১ সালে পাসের হার অনেক বেশি ছিল – যথাক্রমে প্রায় ৮৬% এবং ৯৭% এর বেশি। ফলে, অটো পাসের পর এবারই সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
**শিক্ষার্থীদের মতামত**
স্থগিত পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এবারের ফলাফলে কতটা সন্তুষ্ট, তা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের অনেকেই নম্বর ও ফল চ্যালেঞ্জ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারে।
যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি বা তার আগের পরীক্ষায় ভালো করেছেন, তারা ‘বিষয় সমন্বয়’ বা ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ এর কারণে এবারও ভালো নম্বর পেয়েছেন। ফলে, এবার ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
**শিক্ষার মানের মূল্যায়ন**
পাসের হার বা জিপিএ-৫ দিয়ে শিক্ষার মানের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। আমাদের পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো যথেষ্ট উন্নত নয়। এখনও পর্যন্ত আমাদের পরীক্ষাগুলিতে প্রচলিত ধারায় প্রশ্ন করা হয়, যা শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা পুরোপুরি যাচাই করে না।
সরকার, স্কুল-কলেজ ও অভিভাবকেরা ফলাফলকে পাসের হার বা জিপিএ-এর মান হিসেবেই দেখে। পরীক্ষা কেন নেওয়া হয় বা এর উদ্দেশ্য কী, সেটি বিবেচনা করা হয় না।
**যোগ্যতা ও দক্ষতা**
প্রতিটি শ্রেণি বা স্তরের শিক্ষাক্রমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দক্ষতা নির্ধারণ করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কোন বিষয়ে শিক্ষার্থী কতটা দক্ষতা অর্জন করবে, তা সেই স্তরের শিক্ষাক্রমে সুনির্দিষ্ট করা থাকে। স্কুল-কলেজের পরীক্ষা বা বোর্ডের চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয় যে শিক্ষার্থীরা সেই যোগ্যতা কতটা অর্জন করেছে।
কোনো বিষয়ে পরীক্ষা না হলে, শিক্ষার্থীরা সেই বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা কতটা অর্জন করেছে তা বোঝা সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী ফলাফলের ভিত্তিতে তা মোটেই বোঝা যায় না।
**অটো পদ্ধতির সমস্যা**
এবারের ফল তৈরির ‘অটো’ পদ্ধতিটি অটো পাসের মতোই বিভ্রান্তিকর। কারণ, উচ্চমাধ্যমিকের কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর অবস্থান কী, তা কেবল পরীক্ষার মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব।
এই ফলাফল উচ্চশিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেসব বিষয়ে পরীক্ষা ছাড়া নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীর প্রকৃত অবস্থা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারণ করতে পারবে না।
**ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা**
ভবিষ্যতে পরীক্ষা ছাড়া নম্বর দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে আরো বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও এ ধরনের দাবি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।