• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন |

উদীচীর প্রতিবাদ: ৭ মার্চসহ তিনটি দিবস বাতিলের বিরুদ্ধে

**বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদ: ৭ মার্চ, ১৫ আগস্ট ও ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় দিবস বাতিলের বিরোধিতা**

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

উদীচী মনে করে, এই দিবসগুলি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গঠন এবং রাষ্ট্র হিসাবে এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তারা জোর দিয়েছেন যে এই দিবসগুলি কোনও দল বা পরিবারের নয়, বরং পুরো জাতির।

গত বৃহস্পতিবার উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে একটি বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি এই দিবসগুলি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন যে এই দিবসগুলি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার এবং শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু উদীচী বিশ্বাস করে যে এই ধারণা ভুল।

৭ মার্চের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে উদীচী বলেছে, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। এছাড়াও, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি বিরল ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে পাকিস্তানি প্রভাবের অধীনে ফিরিয়ে আনার একটি ষড়যন্ত্র ছিল।

উদীচী ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস বাতিলের সিদ্ধান্তকেও অনুচিত বলে মনে করে। 1972 সালের এই দিনে গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল, যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উদীচী জোর দিয়েছে, ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস এবং ৭ মার্চ জাতীয় দিবসকে অস্বীকার করা ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। তারা বলেছে, এই দিবসগুলি বাতিল করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার একটি প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *