• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন |

জাপার ওপর অবিচার হচ্ছে : কাদেরের অভিযোগ

**জাতীয় দলের অবিচার**

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, তাঁদের দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু লোক জাতীয় পার্টির পরিচয় মুছে দিয়ে তাদের ছাত্র আন্দোলনের বিরোধী দল রূপে দেখানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সভায় কাদের এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জাতীয় পার্টি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দরুন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রংপুরে মামলা হয়। তাঁরা আন্দোলনে যোগদানের জন্য গ্রেপ্তার ও কারাগারে রাখা হন।

জি এম কাদের জানান, ১ জুলাই ছাত্ররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করলে ৩ জুলাই সংসদে তিনি এই আন্দোলনকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের এই আন্দোলন যৌক্তিক, কারণ চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংবিধানের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে আটক করার পর জাতীয় পার্টি তাদের মুক্তির দাবি জানায়। ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর প্রতিবাদ ও প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে জাতীয় পার্টি।

জি এম কাদের অনুযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে এখন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলার শিকার ও জেলে যান। আর এখন সেই আন্দোলনের হত্যার মামলায় তাদের নামে মামলা করা হচ্ছে। এই অন্যায় মেনে নেওয়া যাবে না। জাতীয় পার্টি মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ জানাবে।

তিনি জানান, রংপুর থেকে তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। রংপুরের মানুষ তাঁর পক্ষে লড়াই করতে রাজপথে নামছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করেন, তাঁদের দল কোনো অপরাধ করে না। কিছু লোক তাদের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তাঁরা ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেতে চান না। তাদের জোর করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও উপজেলা পরিষদ ও মেয়র নির্বাচনে তারা অংশ নেয়।

জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে স্বৈরাচারের দোসর বলা উচিত নয়। কারণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিএনপিসহ সব দলই অংশ নিয়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা চার বছর সংসদে কাজ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করেন না। তাঁদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হল জনগণের পাশে দাঁড়ানো। তিনি সংসদ ও সংসদের বাইরে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন।

এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মোস্তাফিজার রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মীর আবদুস সবুর, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ, এ টি ইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. মিজানুর রহমান, সৈয়দ দিদার বখত, নাজমা আক্তার, আলমগীর সিকদার প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *