• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন |

৪ বিসিএস বাতিলের দাবিতে বিএনপির প্রতিবাদ

**বিএনপির ৪ বিসিএস নিয়োগ বাতিলের দাবি**

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক জারি করা ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার দুই হাজার ৬৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হোক। একইসঙ্গে তিনি ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার সব প্রক্রিয়াও বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আওয়ামী লীগের অনুগত পিএসসির সুপারিশে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা এই বিসিএসগুলোতে স্থান পেয়েছে।” তিনি দাবি করেছেন যে, ছাত্রলীগকে প্রশাসন থেকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যে এই তিনটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল করা উচিত।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পিএসসি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সম্প্রতি পদত্যাগ করেছে। তারা সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় বিসিএস ৪৩তম ব্যাচের দুই হাজার ৬৪ জন প্রার্থীকে নির্বাচন করেছিল। অভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে এই দুই হাজার ৬৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সালাহউদ্দিন আহমদ “অন্তর্ঘাতমূলক” বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাত্র দুই মাসের মধ্যে কীভাবে আওয়ামী লীগের অনুগত দুই হাজার ৬৪ জন প্রার্থীর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো?”

৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা জানতে পেরেছি, শেখ হাসিনা সরকারের সময় আবেদনকৃত ৪৪তম বিসিএসের যে নয় হাজার জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল, তার মধ্যে তিন হাজার জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর ৪৫তম বিসিএসের লিখিত উত্তরপত্রের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্য দিকে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তিন মাস আগে।” তিনি দাবি করেছেন, এই তিনটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়াসমূহ পুরোপুরি বাতিল করা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমদ পাসিং আউট পুলিশের ৮০৩ জন উপপরিদর্শক (এসআই) নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার পুলিশ প্রশাসনে তাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিদায় নেওয়ার পূর্বে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে মোট ৮০৩ জনকে নিয়োগ প্রদান করে। আমরা জানতে পেরেছি, এর মধ্যে দুইশ জনের বাড়িই গোপালগঞ্জ এবং চারশ তিন জন সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য।”

তিনি আরও বলেছেন, “পিএসসির সংস্কার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, পিএসসির সংস্কার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে সব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত, যাতে চাকরি প্রার্থীরা পিএসসির সুফল পায় এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতির আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *