**ফ্রাঙ্কফুর্টে চলছে বিশ্ব বই মেলা**
জার্মানির সড়কগুলিতে প্রায় প্রতিটি মোড়েই দেখা যায় বইয়ের আলমারি। কেউ চাইলেই বই নিতে পারেন তা পড়ে আবার সেখানেই রেখে যেতে পারেন। এ থেকেই এবারের বইমেলার থিম কথা ‘পড়ুন, ভাবুন, সংযোগ করুন’। বুধবার, জার্মানির ব্যাংকিং কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে শুরু হল বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ৭৬তম আন্তর্জাতিক বই মেলা। এই মেলার আয়োজন করে জার্মান পুস্তক প্রকাশক এবং বিক্রেতা সমিতি। বিশ্বখ্যাত লেখক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং লাখো বইপ্রেমী দর্শনার্থীর পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ জমে উঠেছে।
প্রতিবছরের মতো, এবছরও মেলার বিশেষ অতিথি একটি দেশ। এবার সেই দেশটি হলো ইতালি। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী, যেমন উপস্থিত ছিলেন জার্মানির সংস্কৃতি উপমন্ত্রী ক্লডিয়া রথ। চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও এবার আসতে পারেননি। মেলার উদ্বোধন করেন মেলার পরিচালক ইয়র্গেন বোস।
মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ১৩০টি দেশের ১ লাখ প্রকাশনা সংস্থা এবং প্রকাশনা সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অ্যানালগ এবং ডিজিটাল বই নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন এবারের বই মহোৎসবে। তবে এখানে কোন বই বিক্রি করা হয় না। এই মেলায় শুধুমাত্র ব্যবসায়িক চুক্তি হয়। বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি স্টল রয়েছে। তবে অতীতে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে আসতেন। তাদের জন্য এটি ছিল ‘জার্মানিতে বেড়াতে যাওয়া’ আর বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য ছিল নিয়মিত কাজ।
মেলা কমিটি প্রতি বছর তৃতীয় বিশ্বের একজন নতুন এবং নারী প্রকাশককে মেলায় আসার-যাওয়ার সব খরচ বহন করে। বাংলাদেশের প্রকাশকরাও এই সুযোগ নিতে পারেন। এই মেলার শেষ দিনে শহরের প্রধান হল, পল গির্জার হল রুমে একজন লেখককে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে। শনিবার এবং রবিবার, মেলার শেষ দুই দিনে, কেউ যেমন খুশি সেজে আসতে পারেন; কোন প্রবেশ মূল্য লাগবে না। জার্মানরা বই কেনে, পড়ে এবং উপহার দেয়। যখন তারা বাজারে যায়, তখন পেটের জন্য খাবার কেনে, প্রিয়জনের জন্য ফুল কেনে, পড়ার এবং জানার জন্য বই কেনে। আর এই কারণেই বিশ্ব বই মেলা এখানে এতোটা মানায়।