• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন |

আয়ারল্যান্ডে রক্তাক্ত জুলাই স্মরণসভার আয়োজন

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের জুলাই মাসের রক্তাক্ত ঘটনার স্মরণার্থে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশী সচেতন নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে ডাবলিনের সাইনটলজি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল উদ্দেশ্য ছিল এই স্মৃতি ধরে রাখা এবং বাংলাদেশে আর কখনও এমন ঘটনা যাতে না ঘটে।

রক্তাক্ত জুলাই মাসে বেশিরভাগ হতাহত ছিলেন কমবয়সী ছাত্র এবং শিশু। এমন মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি কিছুটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে দেখে এই স্মরণসভা আয়োজনের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশিরা হতাহতদের স্মরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক রান্তি চৌধুরী উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা জুলাই মাসের ঘটনাটি ভুলতে পারি না এবং আমাদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে বাংলাদেশে আর কখনও এমন ঘটনা ঘটবে না।’ এরপর তিনি এ অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় যা জুলাই মাসের গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে। তথ্যচিত্রটি চলার সময় অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেকের চোখে অশ্রু দেখা যায়। তথ্যচিত্রটির পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিক সমাজের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত ব্যক্ত করেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল হামিদ রনি, মেহেদী হাসান, তানভীর শরীফ, বদরুজ্জামান মাসুম, আবদুল জলিল, ছাত্র প্রতিনিধি মুজাহিদ, হাবিবুর রহমান, দিদারুল আলম, মাহমুদুল হান্নান জুনুন ও অন্যান্য। তাঁরা বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন নজীর নেই যেখানে নিজের দেশের সরকার তার দেশের মানুষের বুকে গুলি করে, যেমনটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। দেশে এমন যাতে আর কখনও দিন না হয়, কখনও যাতে ফ্যাসিবাদ আর ফিরতে না পারে, এজন্য বাংলাদেশে এবং প্রবাসে আমাদের সবার সচেষ্ট হতে হবে। হত্যাকারী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে দেশের সিস্টেমের এমন ক্ষতি কেউ না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

এরপর ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটসের মুখপাত্র এশিয়া কুজমা ৩০টি মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং কীভাবে সেগুলো কার্যকর করা যেতে পারে তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মানবাধিকারের বিষয়গুলো বোঝা এবং প্রয়োগ করা ভবিষ্যতে এধরনের সহিংসতা প্রতিরোধের চাবিকাঠি।

এই স্মরণসভা শুধু হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং রক্তাক্ত ঘটনার ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মানবাধিকারের প্রতি সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অনুষ্ঠানটি আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে যে তারা জুলাই মাসের রক্তাক্ত স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখবে এবং একটি ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করবে, যেখানে এধরনের নৃশংসতার আর কোন স্থান থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *