• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন |

সুইডেনের গণতন্ত্র, বাংলাদেশের উদাহরণ হতে পারে?

**সুইডেনের সাংবিধানিক গণতন্ত্র বাংলাদেশকে অনুসরণের দাবি**

সুইডেন, বাংলাদেশের প্রায় তিন গুণ বড় হলেও জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি। তবু দেশটির সংসদে আটটি রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে মাত্র ৫-৬টি রাজনৈতিক দল উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করছে। বাকি দলগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। তারা ফেসবুকে ‘সংসদ’ তৈরি করে তর্ক-বিতর্ক করছে, কিন্তু আসল ক্ষমতায় তাদের অবস্থান নেই।

সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড- এই দেশগুলো যদিও জনসংখ্যায় ছোট, তবু সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং তাদের মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের রাজনৈতিক বহুত্ববাদ অনুপস্থিত থাকায় আমি হতাশ হই। এ কারণে আমাদের রাজনীতিতে দুর্নীতি, অনৈতিকতা, ভণ্ডামি, গুন্ডামি এবং স্বৈরতন্ত্র দেখা যায়।

সুইডেনের গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসরণ করলে বাংলাদেশে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেও একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা যাবে।

সুইডেনের গণতান্ত্রিক কাঠামোটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে দেওয়া হলো:

**সংসদ (রিক্সড্যাগ)**
সুইডেনের সংসদকে রিক্সড্যাগ বলে, এতে ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছে। এরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং তাদের দায়িত্ব সরকারকে তদারকি করা ও আইন প্রণয়ন করা। প্রতি চার বছর অন্তর সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

**ভোটপদ্ধতি**
সুইডেনে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রচলিত। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। কোনো দল সংসদে প্রবেশের জন্য জাতীয়ভাবে অন্তত ৪ শতাংশ বা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

**ক্ষমতার বিভাজন**
সুইডেনের রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হলেও তাঁর হাতে কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে সংসদ ও সরকারের মধ্যে বিভাজিত। সরকারের প্রধান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন করেন ও সরকারের কাজকর্ম তদারকি করেন।

**আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব**
বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী সংসদে আসন বরাদ্দ করা হয়। এতে সব রাজনৈতিক দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব পায়।

**নির্বাচনী পদ্ধতি**
সুইডেনে নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা তাদের পছন্দের দল বা ব্যক্তির জন্য সরাসরি ভোট দিতে পারেন, যা ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দেয়।

সুইডেনের এই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো দেশটিকে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দিয়েছে। বাংলাদেশে সুইডেনের মতো কাঠামো প্রয়োগ করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে এবং নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা হবে। কেবল আইন সংস্কার নয়, বরং আমাদের প্রথমে নিজেদের নৈতিকতার সংস্কার করতে হবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে হবে।

আজ দেশের মানুষ দেখছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলের নিজেদের সংস্কারের কোনো চেষ্টা নেই। তারা যদি সংস্কার না করে, তাহলে সংসদে প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে আসবে? সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, যেখানে দীর্ঘদিন একই পরিবার শাসন করবে। ৫৩ বছর ধরে একই ব্যক্তিরা তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা রেখেছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ‘দানবে’ পরিণত হয়েছে। যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব পরিবর্তন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দুর্নীতি ও অপব্যবহার কমবে।

এখনই সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা জরুরি, যেখানে এমপি ও মন্ত্রীর সন্তানরা কেবল পরিবারের প্রভাবের কারণে মনোনীত হয়। তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে, যাতে নতুন চিন্তাধারা ও শক্তি দেশের উন্নয়নে লাগানো যায়। ড. ইউনূস ঠিকই বলেছেন, ‘যারা ৫৩ বছরেও কিছু করতে পারেনি, তাদের কাছ থেকে আর কিছু আশা করা যায় না।’ তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে।

তা না হলে, বড় দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা গডফাদারের আশীর্বাদে ক্ষমতায় আসতে থাকলে, দেশটি পুরনো রাজনীতিতে আটকে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দেয় এবং নিজেদের সংস্কার করে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক অগ্রগতি দ্রুত হবে। পাশাপাশি, বড় দলগুলোর বাইরেও নতুন দল ও নেতৃত্ব দরকার। রাজনীতিতে সব ধরনের গড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *