**এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ চার পরিচালকের ঋণখেলাপি হওয়াতে উদ্বেগ**
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার আটটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছেন না। ফলে তিনি ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন। ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান সোহেলা হোসাইন এবং দুই পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দীন মোনেম ও আবদুল আউয়ালও ঋণখেলাপি হয়েছেন।
এই চার পরিচালকের ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে এনসিসি ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও এই চার পরিচালক এখনও তাদের পদে বহাল রয়েছেন।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কেউ ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। এমনকি, পরিচালক পদে থাকা কেউ ঋণখেলাপি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু এনসিসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
জানা গেছে, প্রাইম গ্রুপের মালিকানাধীন এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বাশার একই গ্রুপের ডিএমডিও। তার বাবা আবদুল আউয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং প্রাইম ব্যাংকের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৭ ধারায় নোটিশ দিয়েছে। এই ধারায় নোটিশ দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে পরিচালক পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হওয়ার কথা।
এদিকে, এনসিসি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেলা হোসাইন মীর আকতার হোসাইন লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি মীর সিমেন্ট, মীর রিয়েল এস্টেট ও মীর কংক্রিট প্রোডাক্টস লিমিটেডের মালিক। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণও খেলাপি হয়ে পড়েছে। ব্যাংকটির অপর পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দীন মোনেম আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী। এই প্রতিষ্ঠানের ঋণও খেলাপি।
এনসিসি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল আলম জানিয়েছেন, ভাইস চেয়ারম্যানের ঋণ পুনঃ তফসিল করে নিয়মিত করা হয়েছে। অন্যদের ঋণও নিয়মিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালক পদত্যাগ করেন। তবে পরে আবার তাদের পুনর্নির্বাচন করা হয়। বিদ্যমান আইনের মতে, এজিএম হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে অনাপত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা প্রয়োজন। কিন্তু এনসিসি ব্যাংক গত ২৫ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ এজিএম হওয়ার প্রায় দুই মাস পরে, অনাপত্তি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কোনও সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বাশার ও পরিচালক মঈনউদ্দীন মোনেমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কেউ ফোন ধরেননি।