• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন |

হেজবুল্লাহর ড্রোন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ছাড়িয়ে গেছে, আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে হিজবুল্লাহ ড্রোন নিয়ে হামলা চালিয়েছে, বড় হামলার হুঁশিয়ারি

লেবাননের সশস্ত্র দল হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের উপর আরও হামলা করার হুমকি দিয়েছে। গত রবিবার ইজরায়েলের হাইফা এলাকার কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর এই হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে। সশস্ত্র দলটি বলেছে, ইজরায়েল যদি লেবাননে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবে দেশটিতে আরও হামলা চালানো হবে।

হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, তারা একই সময়ে আক্কা ও হাইফা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দলবেঁধে ড্রোন উড়িয়েছে। এর মধ্যে কিছু ড্রোন প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। ড্রোনগুলো ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারগুলোর চোখ এড়িয়ে যেতে পেরেছে। এগুলো রাডারে শনাক্ত হয়নি এবং তা হাইফার দক্ষিণে বেনইয়ামিনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। যেসব কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে ইজরায়েলি বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সেনা উপস্থিত ছিল।

ইজরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, হামলায় চার সেনা নিহত হয়েছে। এটি ছিল গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইজরায়েলি কোনো ঘাঁটিতে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। লেবাননে হিজবুল্লাহর উপর হামলা বাড়িয়েছে ইজরায়েল।

গতকাল ইজরায়েলের ঘাঁটিতে হামলার পর হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ার করে বলেছে, লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে ইজরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাদের জন্য যে জবাব অপেক্ষা করছে, তার তুলনায় এ হামলা কিছুই নয়।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বলেছে, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার লক্ষ্যে হাইফার উত্তরাঞ্চলে নাহারিয়া ও আক্কা এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। সশস্ত্র দলটি একে ‘মিশ্র অভিযান’ বলেছে।

বেনইয়ামিনায় হামলা চালানোর দাবি করে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা হাইফা এলাকার দক্ষিণে সেনাবাহিনীর একটি ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন ঘাঁটিতে’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

লেবানন থেকে ইজরায়েলে দুটি ড্রোন উড়ে আসার ঘটনার দুই দিন পর এ হামলা হলো। ওই ড্রোনগুলো ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর দেশটির মধ্যভাগে বিমান হামলাজনিত সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছিল। এ ঘটনায় তেল আবিবের উত্তর দিকের অন্তত একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইজরায়েলে নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ। তবে গত সেপ্টেম্বরে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই শুরু হওয়ার পর হামলার মাত্রা বেড়েছে।

হিজবুল্লাহর ড্রোন কীভাবে ইজরায়েলের এতটা ভেতরে ঢুকে হামলা চালাল, সেটা একটি প্রশ্ন। ইজরায়েল দাবি করেছে, আয়রন ডোম ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। হামলা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের সঙ্গে দেশটির সংঘাতকে কেন্দ্র করে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

ইজরায়েলি সেনা শিবিরে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জন, আহত ৬৭ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *