• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন |

হেজবুল্লাহর ড্রোন ইসরাইলের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর রহস্য উন্মোচন

ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি বিশ্বস্ত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গত রবিবার, হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ভেঙে ইজরায়েলের অনেকখানি গভীরে প্রবেশ করে একটি প্রাণঘাতী আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়েছে।

লেবাননের ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে ইজরায়েলের মধ্য-উত্তরাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি।

এই হামলায় চারজন ইজরায়েলি সেনা নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এই হতাহতদের তথ্যটি ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে। জানা গিয়েছে, আহত সাতজন সেনার অবস্থা গুরুতর।

গতকাল দিনের শেষদিকে স্থানীয় সময় এই ড্রোন হামলাটি ঘটেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধের শুরু হওয়ার পর থেকে, গতকালকার ঘটনাটি ইজরায়েলের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪, আহত ৬৭আইডিএফ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ পাঠানো একটি ড্রোন বেনيامিনা শহর সংলগ্ন একটি ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে। শহরটি তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত। লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে।

গতকাল হিজবুল্লাহের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বেনيامিনায় ইজরায়েলি বাহিনীর একটি পদাতিক প্রশিক্ষণ শিবিরকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন পাঠিয়েছে।

হিজবুল্লাহর এই ঘোষণার পরই ইজরায়েলে ড্রোন হামলার খবর প্রকাশিত হয়।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার লেবাননে ইজরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা গতকাল ইজরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় ২২ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছে।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের গোলানি ব্রিগেডকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে। গোলানি ব্রিগেড আইডিএফের একটি পদাতিক ইউনিট। এই ইউনিটের সদস্যদের ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করেছে।

ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্রধ্বংসী ব্যবস্থা এবং সেনা পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রহামলার দায়িত্ব স্বীকার করার কয়েক ঘন্টা আগে, হিজবুল্লাহ তাদের নতুন নিহত নেতা হাসান নাসরুল্লাহের একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছে। এ বার্তায় তিনি হিজবুল্লাহর সদস্যদের তাদের নিজেদের মানুষ, পরিবার, জাতি, মূল্যবোধ এবং মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে ইজরায়েলি হামলায় নাসরুল্লাহ নিহত হন।

গতকাল দিনের শুরুর দিকে, আইডিএফ জানিয়েছিল যে, তারা লেবানন থেকে পাঠানো একটি ড্রোনকে গুলি করে ফেলেছে। তবে এই ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা তারা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি।সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত বিশ্বস্ত। কিন্তু গতকাল, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে হিজবুল্লাহর ড্রোন প্রবেশ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গতকাল হিজবুল্লাহর ড্রোন ইজরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে একটি প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সুযোগ পেয়েছিল।

সিএনএন আরও বলেছে, গতকালের হামলার সময় বেনيامিনা এলাকায় কোনও সতর্কতা সংকেতের খবর পাওয়া যায়নি। যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে যে, ড্রোনটি কীভাবে ইজরায়েলি ভূখণ্ডের এতটা গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার জন্য উত্তর ইজরায়েলের শহর নাহরিয়া এবং আক্কারকে লক্ষ্য করে কয়েক ডজন রকেট এবং একঝাঁক ড্রোন পাঠিয়েছে।

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিজবুল্লাহর নতুন সামরিক নেতৃত্ব, চলছে গেরিলা হামলাহিজবুল্লাহ বলেছে, এই ড্রোনগুলি ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা রাডারগুলিকে ফাঁকি দিয়ে শনাক্তকরণ এড়ানো সক্ষম হয়েছিল এবং বেনيامিনার অভিজাত গোলানি ব্রিগেডের প্রশিক্ষণ শিবিরকে লক্ষ্য করেছিল।

আইডিএফের শীর্ষ মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী এই ঘটনার তদন্ত করবে। কীভাবে ড্রোনটি ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে পেরেছিল, কিন্তু কোনও সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।

ঘাঁটি থেকে দেওয়া একটি ভিডিও ঘোষণায় হাগারি বলেছেন, তারা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিবেন। তারা এই ঘটনার তদন্ত করবেন।

আইডিএফের এই মুখপাত্র বলেছেন, তারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলা করে আসছে। তবে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *