• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন |

লিচুর বিচি: স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ভ্রান্ত ধারণা

লিচুর বিচির উপকারিতা: সত্যি নাকি মিথ্যা?

লিচুর মিষ্টি ও রসালো শাঁস উপভোগ করার পর আমরা সব সময়ই বিচিগুলো ফেলে দিই। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে লিচুর বিচি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিছু স্বাস্থ্যবিষয়ক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালেও লিচুর বিচির নানা উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই বিচি হজম ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে, গ্যাসের সমস্যা দূর করে। এমনকি আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি ত্বকের জন্যও উপকারী এবং শরীরের রক্ত সরবরাহ বাড়াতে ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, লিচুর বিচি সরাসরি খাওয়া নিরাপদ নয়। তাদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লিচুর বিচি খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক পরামর্শ দিলেও লিচুর বিচি গুঁড়া করে খুব অল্প পরিমাণে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে খেতে হবে।

লিচুর বিচিতে মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-অ্যালানাইন (এমসিপিএ) ও মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লিসাইন (এমসিপিজি) নামক কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থ মস্তিষ্কের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে খেলে বা যারা অপুষ্টিতে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া গোটা লিচুর বিচি খেলে গলায় আটকে যেতে পারে। এটি অন্ত্রনালির পথও বন্ধ করে দিতে পারে, যা থেকে পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন, ব্যাপক গবেষণার আগে লিচুর বিচি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। গবেষণার পর যদি লিচুর বিচি উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়, তখন এটি প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার উপযোগী করে নিতে হবে।

ডা. সাইফ হোসেন খান,

মেডিসিন কনসালট্যান্ট, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *