**প্রাকৃতিক সবুজায়ন কিভাবে আপনার মানসিক চাপ কমাতে পারে জানেন?**
কর্মব্যস্ত নগর জীবনে, আমরা বেশিরভাগ সময় কৃত্রিম আলোয় ঘরে কাটাই। কম্পিউটার, ট্যাবলেট অথবা মোবাইল ফোনের পর্দায় আমাদের চোখ সব সময় থাকে। কৃত্রিম আলোর এই পরিবেশে আমাদের মন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। এমন সময়ে আমাদের মনের প্রয়োজন থাকে এক খণ্ড প্রশান্তি, প্রাকৃতিক সবুজায়ন। এটা হতে পারে বিশাল সবুজ মাঠ, দূরের ঘন জঙ্গল অথবা ব্যালকনির ছোট্ট বাগান। কারণ, সবুজায়ন আমাদের মনে আনে প্রশান্তি এবং দেহে আনে সুস্থতা।
**সবুজ প্রকৃতি কিভাবে আমাদের ভালো রাখে?**
* **স্ট্রেস হ্রাস করে:** পাহাড়ি আরোহীরা জানান, এক ঘন্টা ট্রেডমিলে হাঁটার চেয়ে এক ঘন্টা পাহাড়ে আরোহণ কম ক্লান্তিকর। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশে সবুজায়ন এবং বিশুদ্ধ বাতাস মানুষকে ক্লান্ত হতে দেয় না। শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ হ্রাস পায়, ফলে মানুষের উদ্বেগ ও ক্লান্তি কমে যায়।
* **মেজাজ ভালো রাখে:** সবুজ প্রকৃতি মানুষের রাগ, হতাশা এবং মানসিক অবসাদ কমায়। এটি ইতিবাচক চিন্তাধারা বাড়ায় এবং মুডের ব্যাধি কমায়।
* **দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা করে:** কৃত্রিম আলো চোখের মাংসপেশীতে চাপ সৃষ্টি করে এবং চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ সবুজের দিকে তাকালে চোখের মাংসপেশীগুলি শিথিল হয়। এটি মায়োপিয়া (কাছের জিনিস দেখতে না পাওয়া) প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
* **মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে:** সবুজ প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, সৃজনশীলতা বাড়ে। এটি স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে। ফলে, যারা প্রকৃতির মধ্যে বেশি সময় কাটান তাদের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি হারানোর রোগ কম হয়। সবুজ পরিবেশ মানসিক রোগ যেমন সিজোফ্রেনিয়া, অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিজঅর্ডার এবং মুড ডিজঅর্ডার হ্রাস করতে সাহায্য করে।
* **রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:** ঘরের ভেতরের দূষিত বাতাস আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অ্যালার্জি এবং ফুসফুসের অসুখ বৃদ্ধি করে এটি মৃত্যুর হারও বাড়ায়। প্রকৃতি এবং সবুজ গাছপালা প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি অনিদ্রা দূর করে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
* **সামাজিক মিথস্ক্রিয়া উন্নত করে:** পার্কে অনেক লোক একসাথে হাঁটছে, কথা বলছে। এটি তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে এবং হার্টের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি এবং স্থূলতাও কমায়।
**সবুজায়নের সংস্পর্শে থাকার উপায়**
সবুজ গাছপালা এবং নির্মল বাতাস শুধুমাত্র আমাদের পরিবেশের জন্যই প্রয়োজনীয় নয়, আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও অতীব প্রয়োজনীয়। যারা পাথরে বিশ্বাস করেন, তারা সবুজ পান্না
কে হিলিং স্টোন বলে মনে করেন। আমরা আমাদের দৈনন্দিন রুটিন কিছুটা পরিবর্তন করে সবুজায়নের সংস্পর্শে থাকতে পারি।
* সপ্তাহান্তে প্রকৃতির কাছে যাওয়া যেতে পারে। কাছের কোনো নদীর তীর, বাচ্চাদের নিয়ে বড় কোনো সবুজ মাঠ অথবা ছুটি নিয়ে পাহাড়ে যাওয়া যেতে পারে।
* ঘরের পাশে, ছাদে অথবা ছোট্ট বারান্দায় বাগান করা যেতে পারে। এতে সময় কাটবে। সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। ঘরের কোণে, জানালার পাশেও ছোট্ট ইনডোর গাছ রাখা যেতে পারে। এতে ঘরটাই সবুজ হয়ে উঠবে।
* কর্মক্ষেত্রে নিজেদের বসার জায়গাগুলিতে ছোট্ট সবুজ গাছ রাখা যেতে পারে। ডেস্কটি জানালার পাশে সেট করা যেতে পারে। যাতে কাজের চাপে চোখ ক্লান্ত হয়ে গেলে কিছুক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো যায়।
* বন্ধুদের সঙ্গে আউটিং রেস্তোরাঁয় না করে কোনো খোলা জায়গায় বা সবুজ পার্কে করা যেতে পারে। এতে ক্লান্তি কেটে সতেজ হওয়া যাবে।
ডা. আফলাতুন আক্তার জাহান, স্পেশালিস্ট (ইন্টারনাল মেডিসিন), স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।