• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন |

ডলারের মূল্য নিম্নে, এক ডলারে ৮৪ রুপি

ডলারের বিরুদ্ধে ভারতীয় করেন্সির মান সর্বকালের নিম্নতম স্তরে পৌঁছে গেছে। শুক্রবার প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য 84 পার হয়েছিল। সোমবার রুপির মূল্য কিছুটা বাড়লেও এখনও 84-এর ঘরেই রয়েছে। রুপির এই অবনতির ধারা ঘটছে কয়েকদিন ধরে।

শুক্রবার এক ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য 84.09-এ নেমে এসেছিল। পরে দিনের শেষে তা 84.07 রুপিতে উঠে আসে। সোমবার সকালে কিছুটা বাড়তির পর রুপির মূল্য 84.05-এ দাঁড়িয়েছে। বুধবার ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ছিল 83.98 রুপি। এই অবনতি ভারতের বাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। খবর বিজ্ঞপ্তি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এ বছরের 12ই সেপ্টেম্বর ডলারের বিপরীতে 83.99 রুপিতে নেমে এসেছিল ভারতীয় করেন্সি। এরপর রুপির অবনতি থেমে গিয়ে এর মূল্য কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু ভারতের শেয়ারবাজারের সূচক পতন হতে শুরু করলে আবারও রুপির অবনতি ঘটতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশী পুঁজি প্রত্যাহারের কারণে ভারতীয় করেন্সির অবনতি হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে ভারতের শেয়ারবাজারে সূচকের পতন ঘটছে। এ কারণে রুপির মূল্য বৃদ্ধির কথা ভাবা চলে না।

রুপির মূল্য আরও অবনতি হতে পারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সরকারী তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর সেই পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হয়নি। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেকার ভাতার আবেদন বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হারও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়ে 0.2 শতাংশ বেড়েছে। যদিও পূর্বাভাস ছিল তা হবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। ভোক্তা মূল্য সূচকও আশানুরূপের চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের ছয়টি শক্তিশালী করেন্সির সাপেক্ষে প্রণীত দ্য ইউএস ডলার ইনডেক্সের মান কমছে। অর্থাৎ অন্যান্য শক্তিশালী করেন্সির বিপরীতে ডলারের মূল্য অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রুপির বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে।

ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। গত এক মাসে এই প্রবণতা অনেকটা শক্তিশালী হয়েছে। চীন অর্থনীতি ত্বরান্বিত করতে আবারও ব্যাপক প্রণোদনা দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজারে শেয়ার বিক্রি করে চীনের বাজারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এ পর্যন্ত 58 হাজার 711 কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন।

এদিকে, 4 অক্টোবর শেষে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। সেই সপ্তাহে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ 370 কোটি 90 লাখ ডলার কমে 70 হাজার 117 কোটি 60 লাখ ডলারে নেমে এসেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে রিজার্ভ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ 70 হাজার 488 কোটি 50 লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। ডলার ছাড়াও ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আরও রয়েছে ইউরো, পাউন্ড এবং ইয়েনের মতো মুদ্রা। এ ছাড়া স্বর্ণের মজুতও কমেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *