গাজা নিয়ে চলা সংঘাত বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। শান্তিতে এ বছরের নোবেল বিজয়ী জাপানের সংগঠন নিহন হিদানকায়ো পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠনটি এই সংঘাতের কারণে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। এই সংগঠনটি আবারও পরমাণু অস্ত্র বিলুপ্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
জাপানের এ সংগঠনটিকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টা এবং পরমাণু অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়, সেটি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
জাপানের নাগাসাকি শহরে ১৯৪৫ সালে পারমাণবিক বোমাবর্ষণের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া শিগেমিতসু তানাকা গত শনিবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপ হচ্ছে এবং বর্তমানে যুদ্ধের মধ্যে দেশগুলো পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছে।
নাগাসাকির এ বাসিন্দা আরও বলেছেন, “আমার শঙ্কা, মানবজাতি হিসেবে আমরা নিজেদের ধ্বংসের পথে চলেছি। এটি বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো পরমাণু অস্ত্র বিলুপ্ত করা।”
নাগাসাকি ছিল সেই দ্বিতীয় জাপানি শহর যেখানে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা হামলা চালিয়েছিল। এতে ৭৪ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। এই হামলার তিনদিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট হিরোশিমায় আরেকটি পারমাণবিক বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
নোবেল পুরস্কার জয়ের পর গত শনিবার হিরোশিমা শহরবাসী বলেছেন, তাঁরা আশা করেন, বিশ্ব ১৯৪৫ সালের এই বোমা হামলার কথা কোনোদিন ভুলবে না। বরং, এখন থেকে আরও বেশি করে মনে রাখবে।
৭৯ বছর আগে হিরোশিমায় বোমা হামলা চালানো হয়। সেসময় সুসুমু ওগায়ার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। এই ঘটনায় তিনি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারিয়েছেন। ওগায়া বলেন, “আমার মা, আমার চাচী, আমার দাদা এবং আমার দাদি সবাই মারা গেছেন।” তিনি বলেন, “বিশ্বের সব পারমাণবিক অস্ত্র বাতিল করতে হবে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের বিভীষিকা সম্পর্কে জানি, কারণ আমরা হিরোশিমায় কী ঘটেছিল তা জানি।”
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে বিশেষ করে গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনায় তিনি ব্যথিত।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনকে হামলা চালানোর এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা অনুমতি দেয়, তাহলে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে এর প্রতিশোধ নেবেন।
ওগায়া বলেন, “মানুষ কেন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে? একে অপরকে আহত করাটা ভালো কিছু বয়ে আনে না।”
গত শনিবার জাপানিরা হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি পার্কে গাজায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে মিছিল করেছেন। হিরোশিমা বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং এই গ্রুপের প্রধান তোশিউকি মিমাকি গত শুক্রবার বলেছেন, গাজার শিশুদের অবস্থা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের শিশুদের মতোই। টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছেন, গাজায় শিশুদের রক্তপাত ঘটানো হচ্ছে। ৮০ বছর আগে জাপানেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।