কলকাতার পূজামণ্ডপগুলির প্রবেশদ্বারগুলিতে দেখা যাচ্ছে ‘ফেলুদক্সী’ নামটি। শুটিং সম্পূর্ণ হওয়া এই সিনেমার নায়িকা হচ্ছেন ঢালিউডের পরীমনি। এ বছরের শুরুতে এই ছবির মাধ্যমে তার টালিউডে যাত্রা শুরু হয়। এখন ছবির মুক্তির অপেক্ষা। আগাম প্রচার শুরু হয়েছে দুর্গাপূজাতে। কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে পৌঁছে গেছে ‘ফেলুদক্সী’ সিনেমার খবর। কলকাতায় প্রচার চললেও যেতে পারেননি পরীমনি, তাই রয়ে গেছে আফসোস। এমনটাই জানা গেল তার সঙ্গে কথাবার্তায়।
কলকাতার মণ্ডপে নিজের সিনেমার পোস্টার দেখে উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী। ফেসবুকে কলকাতার একটি স্থিরচিত্র শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শিগগিরই আসছে লাবণ্য…’। দেবরাজ সিনহা পরিচালিত এই সিনেমায় পরীমনি ছাড়াও অভিনয় করেছেন সোহম, মধুমিতা সরকার প্রমুখ।
ছেলে পদ্মের জন্মের পর থেকেই অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন জনপ্রিয় ঢাকাই অভিনেত্রী পরীমনি। মাতৃত্বকালীন বিরতির শেষে ‘ফেলুদক্সী’ দিয়ে আবার বড়পর্দায় শুটিং শুরু করেন তিনি। এই সিনেমার মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে টালিউডে নিজের কেরিয়ারের প্রথম সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন পরীমনি। ছবিতে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে পরীমনি বলেছেন, ‘মনে হয়েছে এই সিনেমার লাবণ্য চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারব। সে কারণেই চরিত্রটা করেছি। কতটা ভালো পারছি, সেটা মুক্তির পর দর্শকেরাই বলতে পারবেন।’
প্রচারণার প্রসঙ্গে প্রথম আলোর কাছে পরীমনি বললেন, ‘পূজার মতো একটি বড় উৎসবে ছবির প্রচারণার ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে খুব বড় বিষয়। আমার জন্য অনেক ভালো লাগার। খুব ইচ্ছা ছিল, প্রথম প্রচারণায়, পূজার মধ্যে তাদের সঙ্গে থাকব। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে যেতে পারিনি। মনটা খারাপ। একটি আফসোস থেকে গেল। তবে যা হবে মনে হচ্ছে, ভালো কিছুই হবে।’
কথায় কথায় পরীমনি জানালেন, এইরকম প্রচারণা একটি অভিনয়শিল্পী হিসাবে তাকে খুব অনুপ্রাণিত করে। পরীমনি বললেন, ‘আমি এরই মধ্যে যা অনুভব করেছি, তাদের ভালোবাসাটা খুব খাঁটি। টের পাওয়া যায়। কেউ কিন্তু ভালোবাসা দেখালে তা আসল না নকল, বোঝা যাবেই। কলকাতার তাঁরা আমাকে যে ভালোবাসাটা দেখিয়েছেন, তাতে খুব আপন মনে হয়েছে। কাছের মনে হয়েছে। অনেক দিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে থাকলে যে সম্পর্কটা তৈরি হয়, এটা সেই রকমই মনে হয়। আমার সঙ্গে এমনটা হয়েছে। আমি খুবই মনপ্রাণে তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সেই স্বাধীনতাও তাঁরা আমাকে দিয়ে রেখেছেন।’
ফেলুদক্সী সিনেমার পরিচালক দেবরাজ সিনহা সিনেমাটি সম্পর্কে বলেছেন, ‘ফেলুদক্সী একটি থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। যদিও নামটি শুনলে মনে হতে পারে বাংলা সাহিত্য অথবা সিনেমার কিংবদন্তি চরিত্রের প্রভাব রয়েছে। তবে নাম দেখে বিচার করতে বারণ করব দর্শকদের। চিত্রনাট্যের মজা উপভোগ করতে হলে সিনেমাটি দেখতে হবে।’