• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন |

কুসুমে নতুন প্রাণ ১১ অক্টোবরে

গতকাল, ১১ অক্টোবর মুক্তি পেলো কুসুম সিকদার অভিনীত, পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবি ‘শরতের জবা’। এই ছবির মুক্তি দিবসটি কুসুমের জীবনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০২ সালের এই একই দিনে, ১১ অক্টোবরে অভিনেত্রী হিসেবে ‘নতুন জীবন’ পেয়েছিলেন তিনি। ঠিক ২২ বছর পর, একই তারিখে আবার নতুন যাত্রা শুরু করলেন তিনি।

কুসুমের মতে, ছবি মুক্তির জন্য সময়টা খুব একটা ভালো নয়। দেশের দুরবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারকাবহুল ছবি মুক্তি পায়নি। তবে এই ১১ অক্টোবর তারিখটিকে হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। কারণটা জানতে চাইলে কুসুম ফিরে গেলেন ২২ বছর আগে। তখনকার কুসুমকে কেউ চিনত না। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নারী। সেদিন বিকালে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেল।

কুসুম বললেন, “আমি প্রথম পথচলা শুরু করি এই দিনে। ‘লাক্স-আনন্দধারা মিস ফটোজনিক’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১১ অক্টোবর আমার ভাগ্য বদলে যায়। দিনটি আমি কখনোই ভুলতে পারব না। এবার সিনেমা মুক্তির জন্য তারিখ দেখছিলাম, হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কোনো একটি শুক্রবার একই দিনে। সেই দিনে সিনেমা মুক্তি দিলে কেমন হয়। সেই ভাবনা থেকেই সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছি। ১১ অক্টোবর আগে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছিল। ঠিক ২২ বছর পর, আবার ১১ অক্টোবরে নতুন জন্ম হলো।”

গতকাল থেকে কুসুমের নামের সঙ্গে নতুন পরিচয় যুক্ত হয়েছে। কেবল অভিনেত্রী নন, তিনি একাধারে ‘শরতের জবা’র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। আর এই কারণেই বারবার এটিকে তিনি ‘নতুন জন্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন। আগে একজন নায়িকা হিসেবে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এবার কাঁধে নিতে হয়েছে অনেক বড় দায়িত্ব। ফলে, দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কীভাবে রাত আর কীভাবে দিন হচ্ছে, সেটাও কাজে মগ্ন থেকে ভুলে গিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার, কুসুম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, “ছবির প্রচারে বেলা ১১টায় বের হয়েছি। প্রতিদিন বাসায় ফিরেছি রাত ১০-১১টায়। প্রচার থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিবিউশন, পোস্টপ্রোডাকশনের সব কাজ একহাতে করতে হচ্ছে। এটা আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। আগে জানতামই না, একটা ছবি মুক্তির জন্য এতো দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। এটা আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে, আতঙ্কিত করেছে। আমাকে দীর্ঘ সময় ধরে ভাবতে হয়েছে, যা হয়তো আমাকে নতুনভাবে অভিজ্ঞতা দেবে।” তবে এটাও বলেছেন, সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি যতই জটিল হোক না কেন, কাজগুলো তিনি খুব উপভোগ করেছেন।

তবে, বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মানুষদের ওপর কিছুটা ভরসা করেছিলেন। আশা ছিল, তারা তাদের জায়গা থেকে হয়তো কিছুটা হলেও সহযোগিতা করবেন। কিন্তু কুসুম বলেছেন, তাঁর টিম ও পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কারোর কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি, একজন নারী নির্মাতা ও প্রযোজক হিসেবেও তাকে পদে পদে বঞ্চিত হতে হয়েছে।

ভারী মনে কুসুম বললেন, “আমি যদি নারী না হতাম, তাহলে অনেক জায়গা থেকে সহায়তা পেতাম। শুধুমাত্র একজন নারী হিসেবে নতুন পরিচয়ে আসার কারণে অনেকে ইচ্ছে করে হয়তো আমাকে সহযোগিতা করেনি। অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, অনেক বাধা এসেছে। নারী না হয়ে আমি যদি পুরুষ হতাম, তাহলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা আরও সহজ হতো। আরও বেশি সহযোগিতা পেতাম। তবে, আমি অভিজ্ঞতা নিয়েই সামনে এগোতে চাই। আমি থেমে থাকব না। আমার মতো করেই কাজ করে যাব।”

কুসুমকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে। আট বছর আগের সেই ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। তাই এবারের ছবিটিও তাকে নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। তিনি বললেন, “এবার তো আর শুধু অভিনেত্রী নই, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। আমি দর্শকদের উদ্দেশে শুধু এটুকুই বলব, আমার শুরু শূন্য থেকে। আমি চেষ্টা করেছি সিনেমাটিকে সৃষ্টিশীল একটা জায়গায় নিয়ে যেতে। কষ্টের পাশাপাশি জীবনে আনন্দের দরকার আছে। দর্শক পূজার এই ছুটিতে আমাদের সিনেমাটি দেখুন। আলোচনা-সমালোচনা হোক, সেটা আমি প্রত্যাশা করি।”

নতুন পরিচয়ে, কুসুম গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ছাড়াও চট্টগ্রামের বালি আর্কেড সিনেপ্লেক্সে তাঁর ছবিটি মুক্তি দিয়েছেন। ছবিতে কুসুম ছাড়াও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, জিতু আহসান, শহীদুল আলম সাচ্চু, নরেশ ভূঁইয়া, নিদ্রা দে নেহা, মাহমুদুল ইসলাম, অশোক ব্যবসায়ী প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *