• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন |

বিদেশে বাংলাদেশিদের প্রশ্ন: ‘আপনাদের দেশের সমস্যার সমাধান হল?

পয়েন্ট পেড্রো এবং পয়েন্ট ডন্ড্রা হলো শ্রীলঙ্কার যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণের দুটি প্রান্তবিন্দু। এদুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার। এই পথেই হাঁটার অভিযান শুরু করেছেন পর্বতারোহী বাবর আলী ও জুমন নিয়াজ। বাবর আলী অভিযানের রোজনামচা ‘প্রথম আলো’তে লিখছেন৷ আজ পড়ুন পঞ্চদশ পর্ব৷

পঞ্চদশ দিন: ইয়ালাবোওয়া থেকে মহাগালওয়েয়া৷ দূরত্ব ৪৬.১৬ কিলোমিটার৷

থোমাশা হোম স্টে-র খোলা আঙ্গিনায় বিভিন্ন ফলবান গাছ রয়েছে। গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সাধারণ শ্রীলঙ্কানরা রাজনীতি-সচেতন৷ বাংলাদেশের নাম শুনলেই জিজ্ঞেস করে, ‘ইয়োর কান্ট্রি প্রবলেম ফিনিশড? (আপনাদের দেশের সমস্যা কি শেষ হয়েছে?)’ হোম স্টে-র মালিক থোমাশাও এর ব্যতিক্রম নন৷ সকালে ওয়ার্ম আপ করার সময় তাঁর সঙ্গে কিছুটা রাজনীতি-চর্চা হলো৷

পথে নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল প্রচুর উইপোকা এবং হরেক রঙের ও রকমের গিরগিটি। গিরগিটিগুলো উইপোকাকে খাচ্ছে। পাশের রাস্তার ধারে একটি চিনিকল দেখা গেল৷ দূরে দেখা গেল মধ্যম আকারের আখের ক্ষেত৷ মেয়েরা দুলিয়ে দুলিয়ে চুল নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে৷ নুগেইয়াইয়াতে একটি স্কুলে জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে৷ স্কুলের সবাই গানটি গাচ্ছে৷ জেব্রা ক্রসিংয়ে দাঁড়ানো শিশুটিও সেখান থেকেই গানটিতে সুর মেলাচ্ছে৷ ক্যান্টিনে একটি শিশু বড়া মুখে খাবার খাচ্ছে৷ সেখান থেকেও সে ক্যান্টিনের গানের সঙ্গে গাচ্ছে৷

এই অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ির উঠানে নীলমণিলতা ফুলের শোভা রয়েছে৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া এই অসম্ভব সুন্দর নামের জন্য ফুলটি আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে৷ আন্ডাওয়ালেলাইয়াইয়া পেরিয়ে হান্ডাপানাগালায় পৌঁছানো৷ রাস্তা পারাপারের সময় অনেক গিরগিটিকে কালো পিচে মৃত অবস্থায় দেখা গেল৷ সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি শিকার কি এই প্রাণীগুলোই হয়? তবে মানুষের চাপে পিষ্ট এই পৃথিবীতে কে বা এদের খবর রাখে? দুই পায়ে দাঁড়ানো প্রাণীদের ভার বহন করতে করতে পৃথিবীকে ভাগাড় বানিয়ে ফেলা হচ্ছে৷ নিজেদের সুবিধার জন্য পৃথিবীকে ধ্বংস করা হচ্ছে৷

এই অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ির সামনেই কদবেল অথবা মাটির হাঁড়িতে দই বিক্রি হচ্ছে৷ শ্রীলঙ্কায় কদবেল সর্বদাই দেখা যায়৷ ওয়েহেরবিয়াইয়ায়াতে নাশতা করতে বসে দেখা গেল দূর থেকে দুটি ছেলে হেঁটে আসছে৷ তাদের হাতে শ্রীলঙ্কার পতাকা ছিল৷ পোশাকে লেখা ছিল, ‘দ্য জার্নি অফ গোল’৷ রাস্তা পার হওয়ার পর ছেলে দুটিকে থামানো হল৷ তাদের সঙ্গে সিংহলা ভাষায় কথা বলা হল৷ তাতে বোঝা গেল, তারা কিছুটা নিচের জেলা কিলিনোচ্ছি থেকে হাঁটা শুরু করেছে৷ তাদের গন্তব্য হাম্বানটোটা৷ আজ তাদের যাত্রার ১৬তম দিন৷ তাদের ইংরেজি জ্ঞান এবং আমার সিংহলা ভাষাজ্ঞানের ঘাটতির কারণে বেশ কষ্টে এটুকুই বোঝা গেল৷

নাশতার পর হাইওয়ে ছেড়ে ডানে একটি ছোট লাল মাটির রাস্তায় উঠা হলো৷ এরপর আরও একটি সরু পিচঢালা রাস্তায় উঠা হলো৷ এইরকম ছায়াঘেরা এবং নিরব রাস্তা এই ভ্রমণের পথে খুব একটা দেখা যায়নি৷ মানুষ কিংবা যানবাহন, কিছুই নেই৷ শুধু বৃক্ষের ডালে হাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে৷ মাঝে মাঝে সেই শব্দে ছেদ পড়ে ময়ূরের উৎকট ডাকে৷ দীর্ঘক্ষণ পথ চলার পর এটিলি ওয়েয়া নামক জলাশয়ের ধারে থামা হলো৷ সুন্দর হাওয়া বইছিল৷ লেকের ধারের বিশাল পাথরে বসার লোভ সামলানো গেল না৷ অনেকক্ষণ বসে থাকার পর আবার যাত্রা শুরু হলো৷ এবারের রাস্তা জলাশয়ের ধার ঘেঁষে ছিল৷ খানিক পরে একটি মোড় নিয়ে বনের ভেতর নুড়ি ফেলা রাস্তায় উঠা হলো৷ নুড়ি ফেলা রাস্তায় হাঁটাটা কঠিন৷ পায়ের নিচে সারাক্ষণই নুড়ি পিছলচ্ছে৷ তবে চারপাশের দৃশ্যের সৌন্দর্যে কষ্টটা তেমন টের পাওয়া যাচ্ছিল না৷ দুই পাশে কিছু বাড়ি দেখা গেল৷ এখানেই একটি ডালপালা ছাঁটা গাছের ওপর দুটি ধনেশ পাখি দেখা গেল৷ আগে মানকুলমেই হলদে ঠোঁটের এই অতিকায় পাখিটি দেখা গিয়েছিল৷

কিছুটা এগিয়েই পাওয়া গেল কালেকান্ডা রিজার্ভ ফরেস্ট৷ রাস্তা তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে৷ বন্য প্রাণীদের রাস্তায় উঠে পড়া ঠেকানোর জন্য রাস্তার পাশে ইলেকট্রিক বেড়া দেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যেই হঠাৎ খুবই সাধারণ একটি সাইকেলে দুদ্দাড় গতিতে এসে একজন থামাল৷ তিনি জানালেন, পাশের মিলিটারির কমান্ডো ট্রেনিং স্কুল থেকে তিনি এসেছেন৷ আমাদের দেখেই তিনি এসেছেন৷ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আবার দ্রুতবেগে ফিরে গেলেন৷ আরও কিছুদূর এগিয়ে আবার একটি পিচঢ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *