• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন |

চলচ্চিত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার

চলচ্চিত্রে সংস্কার নিয়ো চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী

চলচ্চিত্র নিয়ে যতগুলা কমিটি হইছে, তার মধ্যে পরামর্শক কমিটিই আমার হিসেবে সবচেয়ে ভাল হইছে। বাঁকি কমিটিগুলোর মধ্যে যেমন যোগ্য লোক আছে, তেমনি কিছু অবাক করার মত নামও আছে। এই সমালোচনাটা রাখা দরকার যাতে সরকার বুঝতে পারে। নাইলে আগের আমলের মত ‘কর্তা যা করছেন মাইরি’ পরিস্থিতি আমরা বানিয়ে ফেলব।

আমার হিসেবে এখানে (পরামর্শক কমিটি) আরো অংশীজন থাকার কথা ছিল। যেমন ফাহমিদুল হক, বিধান রিবেরু, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মেজবাউর রহমান সুমন, নুহাশ হুমায়ূন। স্বচ্ছতার জন্য বলে রাখা ভাল, পরামর্শক আর আরেকটা কমিটিতে থাকার জন্য আমায় অনুরোধ করা হইছিল। আমি ব্যক্তিগত কারণে থাকতে চাইনি। এখন যাদের নাম উল্লেখ করলুম, তারা থাকতে না পারার কারণ বলেছে কিনা, তা জানি না।

পরামর্শক কমিটি কতটুকু কার্যকর হবেআমার বক্তব্য থাকবে, এই পরামর্শক কমিটি থেকে পরামর্শ যা যাবে, তা যেন অংশীজনরাই তৈরি করে দেয়। সরকারি কর্মকর্তাদের শুধু এক্সিকিউশনের (সম্পাদন) দিকটা দেখা উচিত। নীতি প্রণয়নে তারা (সরকারি কর্মকর্তা) হাত না দেওয়াই ভাল হবে। কারণ, তারা তো আমাদের সমস্যা আর প্রয়োজনটা জানে না।

প্রথম আলোর একটা প্রতিবেদনে রেভিনিউ শেয়ার আর ই-টিকিট নিয়ে কথা বলেছি। তাই সেটা রিপিট (পুনরাবৃত্তি) করছি না। এখানে আরেকটা কথা যোগ করতে চাই, শিল্পকলা একাডেমির জমি আছে প্রায় সারা দেশজুড়ে। কমপক্ষে ৩০ জেলায় শিল্পকলার জায়গায় মাল্টিপ্লেক্স বানিয়ে সেটা দরপত্রের ভিত্তিতে প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু আমাদের জাতিগত দুর্নাম ‘আমরা শুরু করি, অব্যাহত রাখি না’, তাই এগুলো মাল্টিপ্লেক্সকে মনিটরিংয়ে রাখতে হবে এর মেইনটেন্যান্স ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, না হলে লিজ বাতিলের শর্ত থাকতে হবে। এখন ঝামেলা হল শিল্পকলা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আর সিনেমা-টিভি ওটিটি তথ্য ও সম্প্রচারের অধীনে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে হলেও এটা করা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে ফিল্ম ফান্ড আর সাপোর্ট সিস্টেম। আমাদের সামনে বুসান, সানড্যান্স, বার্লিন, রটারডাম, ফিল্মবাজার স্ক্রিন রাইটার্স ল্যাবের উদাহরণ আছে। আমি মনে করি, পরামর্শক কমিটির উচিত অনুদান প্রথাতে আমূল পরিবর্তন আনা। ৫০ ভাগ ছবি ফার্স্ট আর সেকেন্ড টাইম ফিল্মমেকারদের জন্য বরাদ্দ থাকা উচিত। এই ৫০ ভাগের মধ্যে কমপক্ষে অর্ধেক নারী ফিল্মমেকারদের জন্য থাকা উচিত। তো এই নতুন পরিচালকদের শুধু ফান্ড দিয়েই হাত গুটিয়ে ফেলা যাবে না। স্ক্রিন ল্যাবের মতো ইনকিউবিটরে লোকাল আর ইন্টারন্যাশনাল মেন্টর দিয়ে এদের সাহায্য করতে হবে।

এরপরও আমাদের অনুদান পলিসি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা উচিত। আমরা কোন ধরনের ছবিকে অনুদান দেব? ইরানের মতো সোশ্যালি রিলেভ্যান্ট আর ইমপ্যাক্টফুল স্টোরিটোলিং? নাকি কলকাতার আর্ট হাউজের দুর্বল ফটোকপি? নাকি বেলা তারের মতো ছবি? আমার হিসেবে হচ্ছে, আমাদের এখানকার মানুষ, তাদের সম্পর্ক, আবেগ, পাগলামো—এগুলো নিয়ে আমাদের আশপাশে নিজস্ব গল্প আর চরিত্রেরা হেঁটে বেড়াচ্ছে। এগুলো নিয়ে সোশ্যালি রিলেভ্যান্ট ছবির সংখ্যা বাড়লেই আমরা আসলেই বাংলাদেশি নিউ ওয়েভ হতে পারব।

চলচ্চিত্রে সার্টিফিকেশনের মোড়কে সেন্সরই রয়ে গেলআবার আরেকটা প্রসঙ্গও আছে। লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসন আর দুঃশাসন আপনি খুঁজে পাবেন তাদের সাহিত্য-সিনেমায়। আমাদের গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের সময় তুলে ধরার কাজে এই অনুদান কাজে লাগানো যায় কিনা, দেখতে হবে। তবে আওয়ামী যুগের মতো স্লোগান সর্বস্ব যেন না হয়, খেয়াল রাখতে হবে।

এরপরও পরামর্শক কমিটির উচিত অনুদান কমিটি পুনর্গঠন করা। নতুন পলিসির আলোকে যারা এটা এক্সিকিউট করতে পারবে, তাদের রাখা উচিত। দেখেন, ব্যক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এখন যে অনুদান কমিটি করা হইছে, সেখানে এক-দুজন যোগ্য লোক থাকলেও এটা প্রায় আওয়ামী লীগ আমলের মতোই ব্যাকডেটেড কমিটি। আর এই কমিটির কে কীভাবে ফ্যাসিবাদের কালচারাল উইংের ফুটসোলজার ছিল, সেই আলোচনায় গেলাম না।

আমি মনে করি, এই কমিটিতে থাকার কথা ছিল তাদের, যাদের সারা দুনিয়ায় এই কাজগুলো কীভাবে হচ্ছে, সেটার ফার্স্টহ্যান্ড অভিজ্ঞতা আছে। বিদ্যমান কমিটির যোগ্য দু-একজনের পাশাপাশি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, নুহাশ হুমায়ূন, আরিফুর রহমান, তানভীর হোসেন, সালেহ সোবহান অনীম, আদনান আল রাজীব, কামার আহমাদ সাইমন, হুম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *