• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন |

বাবা সিদ্দিকী মৃত্যুর পেছনে বলিউড-আন্ডারওয়ার্ল্ড সংযোগের আলোচনা

**বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য পুনর্লিখিত নিবন্ধ:**

**বলিউড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পর্ক: বাবা সিদ্দিকের মৃত্যু তুলে ধরল নতুন তথ্য**

বলিউডের তারকাদের এখন শোকে মুহ্যমান করে দিয়েছেন বাবা সিদ্দিকের হত্যা। বাবা সিদ্দিকের খুনের হদিস পেতে গিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বলিউড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরনো সংঘাত। গত শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাঁর ছেলের অফিসের সামনে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি এসে গুলি করে হত্যা করেছিল বাবা সিদ্দিককে। একবার নয়, একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল তাঁকে। জরুরিভাবে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

বলিউড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পর্কের গভীরতা বহু বছরের পুরনো, সেটা ভালো হোক বা মন্দ। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র কীভাবে শুরু হয়েছিল? সেটা জানতে হলে করিম লালার কথা জানতে হবে। এই লালার প্রধান ব্যবসা ছিল অপহরণ, চুক্তিবদ্ধ হত্যা আর মাদক পাচার। বলা হয়, কোনো বিচারী কাজ করাতে হলে একমাত্র তিনিই সমাধান দিতে পারতেন। করিম লালা ঈদ উপলক্ষে তাঁর বাড়িতে বলিউড তারকাদের ডেকে আনতেন। দিলীপ কুমার হেলেনকে নিয়ে গিয়েছিলেন করিম লালার কাছে, তাঁর একটি সমস্যার সমাধান করার জন্য। সেই সময় লালা তাঁর সমস্যা মিটিয়েও দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। এরপর থেকেই বলিউডে তাঁর প্রভাব বাড়তে শুরু করে।

কিন্তু বলিউডে মাস্তানরা কীভাবে ঢুকে গেল? জানা যায়, যখন অভিনেতারা ইচ্ছাকৃত ভাবে শুটিং পিছিয়ে দিতেন অথবা শুটিং করতেন না, তখন তাঁদের সাহায্যের জন্য প্রযোজকরা অভিনেতাদের ভয় দেখাতেন। কেউ কেউ আবার অভিনেত্রীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। হাজি মাস্তান সুন্দরী অভিনেত্রীদের প্রতি দুর্বলতা রাখতেন। তাঁর মধুবালাকে এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে তিনি তাঁর মতো দেখতে একজনকে বিয়েও করেছিলেন, সিনেমায় টাকাও বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু দাউদ ইব্রাহিম যখন বলিউডের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তখন তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক মূলধারায় নিয়ে এলেন। দুবাইয়ে অভিনেতাদের শো করার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুষ্কৃতীকারীরা চাপ প্রয়োগ করে টাকা আদায় করত। এর বিরুদ্ধে সবার আগে সরব হয়েছিলেন প্রীতি জিনতা। কিন্তু আলোচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সেই সময় কেউই মুখ খোলেননি। পরে মুম্বাই পুলিশের তৎপরতায় দাউদ আর ছোট রাজন ধীরে ধীরে বলিউডকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা আদায় করা বন্ধ করেন। কিন্তু তাঁরা সরে গেলেও রবি পূজারির মতো অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।

বাবা সিদ্দিকের মৃত্যুর পর সালমান খানের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এখন বলিউড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না হলেও ভেতরে ভেতরে হিন্দি সিনেমায় তাদের প্রভাব রয়েছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *