**নভোজগতে প্রাণ অনুসন্ধানে যাত্রা শুরু করবে ‘ইউরোপা ক্লিপার’**
অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার অংশ হিসেবে, এবার নাসার পক্ষ থেকে মহাকাশে ইউরোপা ক্লিপার নামের একটি মহাকাশযান পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ ইউরোপাকে ঘিরে রয়েছে বরফের আবরণ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বরফের নিচে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। সেই অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহের জন্যই ইউরোপা চাঁদের উদ্দেশে মহাকাশযানটি পাঠানো হচ্ছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ইউরোপা ক্লিপারের যাত্রা শুরুর কথা ছিল। তবে ঘূর্ণিঝড় মিল্টনের কারণে যাত্রাটি স্থগিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে।
ইউরোপা ক্লিপার হল এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় গ্রহ অনুসন্ধান মহাকাশযান। এর ওজন প্রায় ছয় হাজার কিলোগ্রাম। ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনার জন্য এর মধ্যে ক্যামেরাসহ থার্মাল বা তাপীয় ইমেজিং সিস্টেম রয়েছে। গ্যাস ও পৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করার জন্য আছে স্পেকট্রোমিটার।
সমস্তকিছু ঠিক থাকলে, ২০৩০ সালের এপ্রিল মাসে ইউরোপার আকাশে পৌঁছাবে মহাকাশযানটি।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, সৌরজগতে মঙ্গল গ্রহের পাশাপাশি আরও কিছু স্থানে প্রাণের উপস্থিতি থাকতে পারে। বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের চাঁদগুলিতে পানি বা বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেখানে প্রাণ ধারণ করার সুযোগ আছে। অন্যদিকে, অনেক স্থানে তরল মিথেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডও রয়েছে, সেখানেও প্রাণের উপস্থিতি থাকতে পারে।
শনি গ্রহের চাঁদ টাইটান ও এনসেলাডাসের ওপর গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব অনেক বেশি। সেখানে কঠিন বরফের পৃষ্ঠ রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইউরোপা চাঁদেও এমন বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে, যা ইউরোপার পৃষ্ঠের নিচে তরল স্তর আছে বলে প্রমাণ করছে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স