**সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিভাবে আপনার শরীর ও মনকে ক্ষতি করতে পারে**
বছরের পর বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া বন্ধু খুঁজে পাওয়া হতে পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে। বিদেশে থাকা নাতি-নাতনিদের ছবি দেখার আনন্দও এনে দেয় এই প্ল্যাটফর্ম। গত বছরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কী ভূমিকা ছিল, সেটা আমরা সবাই দেখেছি। এমনকি ব্যবসাও হয় ভার্চুয়াল এই মাধ্যমে। তবে, অল্পতেই সীমাবদ্ধ না থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান অনেক মানুষ। যেন সময় কাটানোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এই দৃশ্যত নিরীহ প্ল্যাটফর্ম কীভাবে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে, জানেন?
**1. ঘাড় ও চোখের সমস্যা**
ফোনের স্ক্রিনের দিকে নুইয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করলে আপনার ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এই অবস্থার নাম “টেক্সট নেক সিনড্রোম”। এমনকি যদি আপনি দীর্ঘসময় ভুল পজিশনে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে থাকেন, তাহলেও আপনার ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ছাড়াও আলাদা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে ঘাড়ের ব্যথা ও চোখের উপর অতিরিক্ত চাপের কারণে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, দেখার সমস্যা বা মাথাব্যথা হতে পারে।
**2. ঘুম কম, ব্যায়াম কম**
আলসাতা নিয়ে ফোনে স্ক্রল করতে করতে ঘুমের সঠিক সময়টাই পার হয়ে যায় অনেকের। এভাবে ঘুমের প্রাকৃতিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরটা ঠিক সতেজ অনুভূত হয় না। ফলে সারাদিন খিটখিটে মেজাজে থাকতে পারেন।
এছাড়াও, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করার কারণে মানুষ এক জায়গায় বসে থাকায় হাঁটাচলা বা খেলাধুলায় যে পরিমাণ শ্রম হওয়ার কথা সেটা আর হয় না। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
**3. অযথা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা**
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তারও একটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটির কারণ হতে পারে “ফোমো” (ফিয়ার অফ মিসিং আউট), অর্থাৎ নিজের অনুপস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা ঘটছে তা “মিস” হয়ে যাওয়ার ভয়। সমসাময়িক ঘটনার সঙ্গে “আপডেট” থাকতে না পারার ভয়। এই ধরনের মানুষদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের দূরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ধরুন, কেউ কোথাও ঘুরতে গেছেন। সেখানে কি কি দেখলেন, সেখানকার খাবার কেমন ছিল, এমনকি প্রিয়জনদের সঙ্গ কেমন কাটছে – নিজে উপভোগ করার চেয়ে সবাইকে এই সব কিছুর ছবি দেখানোটা বেশিরভাগ মানুষদের জন্য বেশি “জরুরি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবকিছুর ছবি তোলার অতিরিক্ত আগ্রহ, ছবিতে নিজেকে কেমন দেখাচ্ছে তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা – সব মিলিয়েই এইসব মানুষদের এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে।
**4. বিষণ্নতার নানা রূপ**
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের “সুখী” জীবনের ছবি দেখে নিজেকে “বঞ্চিত” মনে করতে পারেন অনেকে। কারও ছবি বা ভিডিও দেখে মনে হতে পারে “ও কত সুখী” বা “ও কত সফল”। কিন্তু বাস্তব জীবন তো শুধু সুখেরই নয়, দুঃখেরও। চাপা দুঃখ বা গোপন কষ্টের কথা কেউ তো আর সবাইকে জানান না। তাই এখান থেকেই বিষণ্নতার শুরু হতে পারে।
“ওর ছবিতে কত কত রিঅ্যাকসন, আর আমারটায় মাত্র এতটুকুই!” – এমন তুলনাও মনে হীনমন্যতা তৈরি করতে পারে। অন্যদের কটুক্তির কারণেও বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন অনেকে।
**5. সম্পর্কে জটিলতা**
ভার্চুয়াল দুনিয়াকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক সময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কের দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের “ভার্চুয়াল” দুনিয়ার সুখী দাম্পত্য, ঘুরতে যাওয়া, উপহারের বহর দেখে স্বীয় সঙ্গীর কাছেও একই রকম চাহিদা তৈরি করেন।