গতকাল বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৯তম আসরটি শেষ হয়েছে। এই উৎসবে বেশ আলোচনায় ছিল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ নিউ কারেন্টস। প্রথম ও দ্বিতীয় ছবির নির্মাতারা এই বিভাগে ছবি জমা দেওয়ার সুযোগ পান। এবার এ পুরস্কারটি যৌথভাবে জিতেছে কোরিয়ার ছবি ‘দ্য ল্যান্ড অব মর্নিং কাম’ ও মিয়ানমারের ছবি ‘এমএ-ক্রাই অব সাইলেন্স’। ‘দ্য ল্যান্ড অব মর্নিং কাম’ ছবিটি কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, নরওয়ে ও কাতারের প্রযোজনায় তৈরি। এই দুটি ছবিই পেয়েছে ৩০ হাজার ডলারের পুরস্কার। যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
এই উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক আরেকটি বিভাগ হল কিম জিসোক। এই বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা রিমা দাস ও তাইওয়ানের নির্মাতা টম লিন ইউ। তারা পুরস্কার পেয়েছেন ‘ভিলেজ রকস্টার ২’ ও ‘ইয়েন অ্যান্ড এআই-লি’ ছবির জন্য।
বুসান মের্চেন্ট পুরস্কার পেয়েছে পার্ক মিনসো ও কেয়ানিয়াং পরিচালিত ছবি ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড ডেজস’। যৌথভাবে অ্যানাদার হোম সিনেমার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রাঙ্কি সিন। ছবিটি তাইওয়ান, হংকং, চীন ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি। উৎসবে অ্যাক্টর অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন ‘দ্য ফাইনাল সেমিস্টার’ ছবির অভিনেতা ইয়ো লি হা ও ‘হামিং’ ছবির জন্য একই পুরস্কার জিতেছেন অভিনেত্রী পার্ক সিয়ন।
নিউ কারেন্টস ও নেটপ্যাক পুরস্কারের পাশাপাশি কেবি নিউ কারেন্টস অডিয়েন্স পুরস্কার পেয়েছে ‘দ্য ল্যান্ড অব মর্নিং কাম’ ছবিটি। উৎসবে কোস্টারিকা ও স্পেনের ছবি ‘মেমোরিজ অব আ বার্নিং বডি’ ফ্লাশ ফরওয়ার্ড অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। কোরিয়ার ‘কে-নম্বর’ তথ্যচিত্র বিভাগে ডকুমেন্টারি অডিয়েন্স পুরস্কার জিতেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আন্তোনেল্লা সুদাসাসি ফার্নিস ও জো সিইং।
এবার বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে সাবাইন্দোনেশিয়ার ছবি ‘টেল অব দ্য ল্যান্ড’ ফিপরেস্কি শাখায় পুরস্কার জিতেছে। ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি গতকাল শেষ হয়েছে। উৎসবের সমাপনী ছবি ছিল ‘স্পিরিট ওয়ার্ল্ড’। গতকাল উৎসবের শেষে আগামী বছরের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০তম বুসান চলচ্চিত্র উৎসব আর অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে না। আগামী বছর এই উৎসবটি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম বাজার হবে ২০-২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এবার ২৯তম বুসানে বাংলাদেশ থেকে ‘আ উইন্ডো অন এশিয়ান সিনেমা’ বিভাগে মাকসুদ হোসাইনের ‘সাবা’ ও বুসান ফিল্ম বাজারে অংশ নিয়েছে ইকবাল হোসাইন চৌধুরীর ‘ঢাকার নাগিন’ প্রজেক্ট। গত বছর বুসান থেকে প্রথমবারের মতো ইকবাল হোসাইনের ‘বলী’ ছবিটি নিউ কারেন্টস পুরস্কার জিতে বাংলাদেশের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করিয়েছে। এটি দেশের সিনেমার জন্য একটি গর্বের বিষয়।