• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন |

‘কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দিন, সম্পাদক-সাংবাদিকদের মামলা প্রত্যাহার করুন’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক ভয়ঙ্কর দুঃসময় পার করছে। মুক্ত সাংবাদিকতা দূরে থাক সাংবাদিকদের জীবন ও পেশার নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশীদ আলম, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা প্রথম আলোর রিপোর্টার শামসুজ্জামান ও দৈনিক সংগ্রামের ফটোসাংবাদিক আজীজ ফারুকীর মুক্তি, মতিউর রহমানসহ সকল সম্পাদক-সাংবাদিকের মামলা প্রত্যাহার এবং আমার দেশ, দিনকালসহ বন্ধ সকল মিডিয়া খুলে দেয়ার জোর দাবি জানান।

এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই গণমাধ্যমের উপর খড়গ নেমে এসেছে। সম্পাদকদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালাম, হলিডে সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খান, গণকণ্ঠ সম্পাদক আল মাহমুদকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমানকে ট্রাস্টের পত্রিকা থেকে চাকরিচ্যুত করেছে। এবার সম্পাদক আবুল আসাদ, মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারানির্যাতন চালিয়েছে। সর্বশেষ প্রথম আলো সম্পাদককে মামলা দিয়ে নিপীড়ন চালাচ্ছে।’

এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছে। মামলা-হামলার শিকার হচ্ছে। গত তিন মাসে ৬০ জনের অধিক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছে। প্রথম আলোর রিপোর্টার শামসুজ্জামানকেও রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে গুম করতে চেয়েছিল। গণমাধ্যমের চাপে আদালতে তুলতে বাধ্য হয়েছে। সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাত গভীরে মামলা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকার দিনকাল, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ বহু সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে দিনের পর দিন মিডিয়ার উপর কালো থাবা আর সহ্য করা যায় না।’

বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন বলেন, ‘দিনকালসহ সব মিডিয়া খুলে না দিলে সরকারকে পরিণাম ভোগ করতে হবে। তাই অবিলম্বে দিনকালসহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিন। কারান্তরীণ সাংবাদিকদের মুক্তি দিন, তা না হলে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।’

ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে গণমাধ্যমকর্মীদের শঙ্কা ও ভয়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাই তারা এখন সত্য তুলে ধরতে পারছে না। তাদেরকে এখন সেলফসেন্সরশিপ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের সমালোচনা করলে রোষাণলের শিকার হয়ে বন্ধ করা হচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন।’

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তারা দিনকালসহ অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা গণমাধ্যমের উপরে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।’

বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব নাসির আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ার, প্রচার সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসাইন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবুল কালাম, জনকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, দফতর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আব্দুস সেলিম, আবু বকর, জাকির হোসেন, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য শহীদুল ইসলাম, জেসমিন জুঁই, রফিক লিটন, মো: আব্দুল হালিম, ইউনিট চিফ গিয়াস উদ্দিন রাকিব, মিয়া আবদুল হান্নান, ফজলুর রহমান জুলফিকার, আবু হানিফ প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *