দেশের জনগণ বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় দেখতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাটে, পথে, মাঠে ও সমাবেশে প্রত্যেক জায়গায় আজ একটাই প্রশ্ন; এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে কবে বিদায় দিবেন? আমরা নিশ্বাস ফেলতে পারছি না। আরো কিছুদিন এ অবৈধ সরকার যদি থাকে আমরা কেউ বাঁচবো না।’
শনিবার নগরীর কাজির দেউরি নুর আহম্মেদ সড়কে সরকারের পদত্যাগ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় প্রতিটি দিন অতিবাহিত করছি। আমাদের মুক্তি দিন, দেশকে মুক্ত করেন। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের ম্যাসেজ। পরিষ্কারভাবে জনগণের সিদ্ধান্ত এবং তারা অতিসত্বর সরকারের বিদায় দেখতে চায়। এটা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে কেউ টিকে থাকতে পারবে না যতদিন এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় না হয়।
আমীর খসরু বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে বিস্ফোরণগুলো হচ্ছে এগুলোকেও তারা রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে। একটা সরকারের আমলে যখন এগুলো ঘটে তখন সে সরকার দেশ পরিচালনাতে ব্যর্থ। তারা রাজনীতি করছে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরশাদের পতনের সময় মন্দিরে-মন্দিরে আক্রমণ হয়েছিল। স্বৈরাচারদের যখন পতনের অবস্থানে চলে যায় তারা তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে, তারা আরো করবে। কারণ আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতি নেই। এ দলটি রাজনৈতিকভাবে দৈন্যদশায় পড়ে গেছে। দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার অন্য খেলাধুলায় ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মী অংশ নেন।
নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মেদ সড়কের মূল অংশ থেকে শুরু হয়ে একদিকে কাজীর দেউরি মোড়, অন্যদিকে লাভলেইন হয়ে জুবলী রোড পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের মানুষ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে। এই অবৈধ সরকার দুর্নীতি-দুঃশাসনের মাধ্যমে জনগণের অর্থ লুটপাট করে জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করছে। দেশের অর্থনীতি অবনতির মূলে রয়েছে বিনা ভোটে নির্বচিত অবৈধ সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও আমলারা। যার ফলে গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় গ্রেডে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোট ডাকাতি করেছে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বলে আর ভোট ডাকাতির চেষ্টা করবেন না। বিএনপি ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষার জন্য রাজপথে আছে। প্রয়োজনে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়েও অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো: শাহ আলম, আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জয়নাল আবেদীন জিয়া, হারুন জামান, অ্যাডভোকেট মুফিজুল হক ভূঁইয়া, নিয়াজ মো: খান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, নাজিম উদ্দীন আহমেদ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মঞ্জুর আলম চৌধুরী মনজু, মো: কামরুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, সদস্য সচিব ডা: খুরশিদ জামিল চৌধুরী, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নছরুল কদির, জেলা ড্যাব -এর সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, এ্যাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সেলিম জানে আলম, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ।
সূত্র : ইউএনবি