সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের ব্রেইন আল্লাহ প্রদত্ত মহা নেয়ামত। পুরুষদের ব্রেইনে নিউরন থাকে ২৩ কোটি বিলিয়ন আর নারীদের থাকে ১৯ কোটি বিলিয়ন। ব্রেইনের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদেরকে সৎ যোগ্য ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদের বলেন, দেশ ও পৃথিবী গড়ার আগে তোমাদের নিজেকে গড়তে হবে। বাবা-মা, শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে দ্যা স্কলারস ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এইসব কথা বলেন। দ্যা স্কলারস ফোরাম ঢাকার চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলীর সভাপতিত্বে ও ফোরামের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আবিরের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, দ্যা স্কলারস ফোরাম ঢাকার পরিচালক তৌহিদুল হক মিসবাহ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আয়েশা সিদ্দিকা নাইমা, দ্যা স্কলারস ফোরাম ঢাকার উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আবিদ, ফোরামের সাবেক পরিচালক এডভোকেট রিয়াজউদ্দিন ও শাফিউল আলম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, পবিত্র কুরআনই একমাত্র জ্ঞান কোষ। কুরআন বিজ্ঞানময়, এতে প্রচুর বৈজ্ঞানিক বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনার সন্তানদেরকে কোমল পানীয় থেকে দূরে রাখতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জীবানু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। করোনা তার একটি মনে হচ্ছে। এই করোনায় হ্যান্ড স্যানিটাজার, মাস্ক, ভেকসিন বিক্রি করে পুজিঁবাদী কোম্পানিগুলো ১০০ বছরের মুনাফা অর্জন করে নিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো আজ হুমকির মুখে পড়েছে। সেগুলো ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এসব বন্ধন রক্ষা করা জরুরি। কারণ পারিবারিক বন্ধন কমে গেলে সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়বে। ছেলেমেয়েদেরকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে, তাদেরকে সত্য কথা বলতে শিখতে হবে।
অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমাদেরকে তিনটি জিনিস অর্জন করতে হবে। তা হলো নলেজ বা জ্ঞান, স্কিল বা দক্ষতা ও ভালো আচরণ।
তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করে বলেন, আপনার সন্তানদেরকে শত্রু চেনাতে হবে। বর্তমান সমাজে শত্রু হলো মাদক, কিশোর গ্যাং, অপসংস্কৃতি।
বৃত্তি পরীক্ষায় রাজধানীর প্রায় ২৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এরমধ্যে এবার ১০১ জন স্কুলের শিক্ষর্থীকে এবং ৯৯ জন মাদরাসার শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে বৃত্তির চেক, সনদ ও ক্রেস্ট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।