গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বলেন, সম্প্রতি সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অব ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদার গণতান্ত্রিক সূচক ও নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে।
তারা বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচে নামায় বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ১০ দফা দাবির আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই। বর্তমান অনির্বাচিত, অবৈধ দখলদার সরকার বাকশালের আদলে স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে।
মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বৈঠকে ১০ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন আরও বেগবান করে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টিতে’ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে সহযোগী সংগঠনগুলো সেমিনারের আয়োজন করবে। বৈঠকে লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা ‘দি ইকোনমিস্ট-এর ‘ঢাকার দুর্নীতির গন্ধ শহরটির দূষিত বাতাসকেও হার মানিয়েছে’ মন্তব্য সংবলিত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে আগামীতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে ভারতের তিস্তা প্রকল্পে আরও দুটি খাল খননের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহারের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের কোনো চুক্তি না করে আরও ২টি খাল খনন পরিকল্পনা বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার উদ্যোগ। বর্তমান সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মত দেন তারা। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বৈঠকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক নির্দোষ ঘোষণা এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারকে নির্দেশ প্রদানে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বৈঠকে সম্প্রতি পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ভয়ানক হীন সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করছে। অবৈধ সরকার এ জঘন্য ও ন্যক্কারজনক সংঘাত ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বিরোধী দল বিএনপিকে দোষারোপ করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। এ ঘটনায় এই অবৈধ সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন বিএনপি সমর্থককে গ্রেফতার করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। রেলমন্ত্রী পঞ্চগড় সফরে গেলে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে স্পষ্ট জানান যে, আক্রমণকারীরা তার সঙ্গেই রয়েছেন।’
‘স্থায়ী কমিটি মনে করে, এ ঘটনা প্রমাণ করে, সরকারের হীন পরিকল্পনা অনুয়ায়ী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা এই সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয় বৈঠকে।’