• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন |

সবুজ পাতার চাদরে মোড়ানো সাইদুলের বেগুন ক্ষেত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে এসএসিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বারি বেগুন-১২ চাষে সাইদুল ইসলামসহ অনেক কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে।

প্রথমবারের মতো চাষ করা এ প্রজাতির বেগুনের দ্বিগুণ ফলন এবং সঠিক বাজার দর পাওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছেন তারা।

অন্যদিকে বেগুন চাষে তাদের সফলতা দেখে ইতোমধ্যে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এ ইউনিয়নের অনেক বেকার যুবক।

জানা যায়, সাইদুল ওই জমিতে বিভিন্ন সময়ে নানান সবজির চাষ করে থাকে। কিছু দিন আগে মিষ্টি কুমড়া ও লালশাকসহ বেগুনের আবাদ করেছিলেন। এর পাশেই ৫০ শতক জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষক সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বাজারে বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে বেগুন সংগ্রহ করছেন এবং বেগুন ও গাছ রক্ষায় ফাঁদ পেতে পোকা দমনের ব্যবস্থা করছেন। প্রতিটি লাইনে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে দেয়া হয়েছে বেগুন গাছগুলোকে। সবুজ পাতার চাদরে মোড়ানো প্রতিটি বেগুন গাছ ফুলে ও ফলে ভরে আছে। বেগুন চাষ করে লাভবান হয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে ‘স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট’ (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় এ বছর ৫০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন সাইদুল। চার হাজার টাকা খরচ করে ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ প্রকল্পের আওতায় উন্নত জাতের বারি বেগুন-১২ চাষ করেন অনেক কৃষক। শুরুতেই এ প্রজাতির বেগুন চাষে কিছুটা সমস্যা হয়। এ ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় তারা। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রথমবারের মতো বিষমুক্ত সবজি চাষে দ্বিগুণ ফলন উৎপাদন করা হয়। এতে চাষাবাদের খরচের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বিক্রিতে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা।

সফল বেগুন চাষি সাইদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে নিজ ঘরের সামনের পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ শুরু করি। এখন জমিতে বেগুন ও মরিচ রয়েছে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়া ও লালশাক তুলে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। চার হাজার টাকা খরচ করে ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। এছাড়া ক্ষেতে যা বেগুন আছে তা বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান। আর চাহিদার তুলনায় এর উৎপাদনও দ্বিগুণ। এ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এদের থেকে রক্ষা করতে নেট জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে বেগুনের ক্ষতিকর পোকা দমনে ফাঁদ ব্যবহার করে সফলতা লাভ করেছি।

দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, চারা রোপণের দেড় মাসের মধ্যে বারি জাতের বেগুন গাছে ফলন আসে। এ বেগুন আকারে যেমন বড় তেমনি রয়েছে পুষ্টিগুণও। অন্যান্য বেগুনের তুলনায় এ বেগুনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষমুক্ত পদ্ধতিতে বেগুন চাষে ভালো ফলন পেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আরাফাত হোসেন বলেন, এই বেগুন আকারে অনেক বড় এবং প্রতিটা বেগুন আট শ’ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এই বেগুনের ভিতর অনেক নরম ও খেতেও সুস্বাদু। এই এলাকার কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে বারি বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দিচ্ছি কিভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়। কৃষক সাইদুল ইসলাম বেগুন চাষ করে লাভবান হয়েছেন। আমরা তাকে সার-বীজসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছি। আশা করি আগামীতে এখানকার সবজির একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি-১২ জাতের বেগুনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *