বরিশালের সদর উপজেলায় চরমোনাইয়ের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে পীরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আলাপ-আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে বিএনপি। চরমোনাই পীরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই মাহফিলে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া বেশিরভাগ দলের নেতৃবৃন্দ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে থাকা বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চরমোনাই পীরের দাওয়াতে বরিশাল থেকে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গেছে। উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবদিন ফারুক, মিডিয়া সেলের প্রধান ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসেন খান। এ ছাড়াও জেলা পর্যায়ে আরও ছয় নেতা সঙ্গে ছিলেন।’
জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তারা মাহফিল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের লোকজন তাদেরকে আপ্যায়ন করেন। এরপর মাহফিল প্রাঙ্গণে সামনের সারিতে বসিয়ে দেন। সেখানে মাহফিল শোনার পর জুমার নামাজ আদায় শেষে দুপুরের খাবার শেষে আবার বরিশালে ফিরে আসেন। তবে খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, তার ভাই সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে আলাপ হয়েছে।
বিএনপি নেতা শাহিন বলেন, ‘আলাপের মধ্যে ছিল- আগামী নির্বাচন কেমন হবে এবং তারা কেমন নির্বাচন চান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে যাবে কি না। এ সময় আমাদের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ তাদেরকে জানান, বর্তমান একদলীয় সরকার থেকে বের হয়ে বহুদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। এ জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। আসলে তাদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করে আগে যে দূরত্ব ছিল সেটি কমিয়ে আনাই ছিল প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য। এ সময় পীর, তার ভাই এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের আগামী দিনে রাজনৈতিক আন্দোলনের বিষয় তুলে ধরে জাতীয় সরকার গঠনের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন বলে জানান।’
এই বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে আমাদের আন্দোলন সম্পর্কে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষ জানেন। এ কারণে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলাপ বেশি হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি। ওই আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। আমরা চাচ্ছি, দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এ আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করুক এবং আন্দোলনে সম্পৃক্ত হোক।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এ সময় তারাও (ইসলামী আন্দোলন) কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা চান তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করেন। চরমোনাই মাহফিলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, তাদের দাওয়াত রক্ষা করা। একই সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করা। উভয় পক্ষ থেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক নয়, দাওয়াত হিসেবেই দেখছি।’
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর বাৎসরিক মাহফিলে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ বছরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিএনপির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। মেহমান হিসেবে যতটুকু সম্ভব আপ্যায়ন করা হয়েছে। এ সময় দুয়েকটি রাজনৈতিক কথা হয়। এর মধ্যে বিএনপির প্রতিনিধি দল নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি।’
এদিকে চরমোনাই মাহফিল কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘বিএনপির প্রতিনিধি দল মাহফিলে যাওয়ার পরপরই ছবি তুলতে গেলে জয়নুল আবদিন সাহেব বাধা দেন। তিনি জানান, এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশে নয়, সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছেন। এ কারণে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন সেখানকার স্বেচ্ছাসেবকরা।’
উতসঃ বাংলা ট্রিবিউন