বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। জনগণ অবৈধ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত ১০ দফা দাবিতে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক সংস্কতির ধার ধারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি যেদিনই কর্মসূচি দেয়, সেদিনই পাল্টা কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ। শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে অশান্তি সৃষ্টি করছে তারা। প্রতিটি সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। পরে হামলায় আহতদের বিরুদ্ধেই মামলা দেয়া হয়। এসব আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু তাদের উন্নয়ন হচ্ছে গুটিকতেক মানুষের উন্নয়ন। করোনার সময়ে দেশে ১২ হাজার নতুন কোটিপতি তৈরি হয়েছে। এদের উন্নয়ন করছে সরকার। আর সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নতুন করে দরিদ্র সীমার নিচে নেমেছে সাড়ে তিন কোটি মানুষ। সরকার এই সাড়ে তিন কোটি মানুষের নয়। এই মানুষেরা সরকার পরিবর্তন চায়।
অবিলম্বে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকারের আমলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, তা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরে ১০ ভাগ মানুষও ভোট দিতে চায়নি। তারা এক মাগুরা নির্বচনের জন্য তত্ত্বাবধায় সরকারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এখন মাগুরার মতো অসংখ্য নির্বাচন হচ্ছে। তবু তারা বলছে, দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। পদযাত্রায় আরো অংশ নেন জেলা, মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ও হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীসহ মহানগর বিএনপির সকল যুগ্ম আহ্বায়করা।
সমাবেশ শেষে নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে রেজিস্টারি মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে একই সময়ে নগরের কোর্ট পয়েন্টে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানবন্ধন করে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগ। এরপর বিকেলে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।