• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন |

কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আশ্রয়কেন্দ্রের ইট-রড চুরির অভিযোগ

**কুড়িগ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রের ইট-রড বেচার অভিযোগ**

কুড়িগ্রামের উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত কেন্দ্র থেকে ইট ও লোহার রড বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেছেন যে, স্থানীয় বিএনপির একজন নেতা ও তার সাথীরা এ কাজে জড়িত আছেন।

অভিযোগ করা হয়েছে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহুব্বর রহমান এ আশ্রয়কেন্দ্রের ইট-রড বিক্রি করেছেন। তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক সদস্য। তার সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন খুদিরকুটি আবদুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও নূর ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ মাসের শুরুতে ধরলা নদীর পানির স্রোত বেড়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় খুদিরকুটি আবদুল হামিদ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের অংশবিশেষ নদীতে ভেঙে পড়ে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করলে আশ্রয়কেন্দ্রের বাকি অংশ ভাঙনের হাত থেকে বাঁচে। কিন্তু বিএনপির নেতা মহুব্বর রহমান ও তার সহযোগীরা কোনো দরপত্র ছাড়াই আশ্রয়কেন্দ্রের ইট-রড খুলে বিক্রি শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ জন শ্রমিক মেশিন দিয়ে রড কাটছিল এবং ইট সরিয়ে অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। দেখা গেছে, খুদিরকুটি আবদুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অভিযুক্ত রাশেদুল ডিজিটাল স্কেলে রড ওজন করে বিক্রি করছেন এবং খাতায় মূল্যের হিসাব রাখছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, ধরলা নদীভাঙন শুরু হলে আশ্রয়কেন্দ্রের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার সুযোগে বিএনপির সভাপতি মহুব্বর রহমান ও তার অনুসারীরা প্রায় ৫০,০০০টি ইট, ৭টি বড় দরজা, ১৫টি জানালা (গ্রিলসহ), ১টি কলাপসিবল গেট, ৪টি ছোট জানালা, ২০ মণেরও বেশি রড এবং আশ্রয়কেন্দ্রের পাথরযুক্ত রাবিশ বিক্রি করেছেন। প্রতি হাজার ইট ৫,০০০ টাকা, প্রতি মণ রড ১,৮৫০ টাকা এবং প্রতিটি রাবিশের গাড়ি ৩০০ টাকায় বেচা হয়েছে। এসব কেনাবেচা করা হয়েছে কোনো দরপত্র বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই। স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই তাদের কাছ থেকে এসব কিনেছেন।

বৃহস্পতিবার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের ছামছুল ইসলামকে আশ্রয়কেন্দ্রের রড কিনতে দেখা গেছে। তিনি মহুব্বর রহমানের সহযোগী রাশেদুল ইসলামের কাছ থেকে ১,৮৫০ টাকা মণ দরে ৫৫ কেজি রড কিনেছেন। ছামছুল ইসলাম বলেছেন, তিনি এই রড দিয়ে বাড়ির কংক্রিটের খুঁটি তৈরি করবেন।

অভিযোগের ব্যাপারে বিএনপি নেতা মহুব্বর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নদীভাঙনে আশ্রয়কেন্দ্রের অংশবিশেষ ভেঙে গেলে সবাই বাকি অংশের রড ও ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে আমি কিছু শ্রমিক নিয়ে রড ও ইট খুলে খুদিরকুটি আবদুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে রেখেছি। কিছু বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করছি, এখনও প্রায় ১৪,০০০ টাকা মজুরি বাকি আছে।’

সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ইট ও রড নিলাম ছাড়া বিক্রির অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে মহুব্বর রহমান বলেন, ‘নিলাম ছাড়া বিক্রির সুযোগ আছে কি নেই, সেটা জানি না। ইতিমধ্যে আমরা ইউএনও স্যারকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি।’

বেগমগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেছেন, ধরলা নদীর ভাঙনে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় কয়েকজন বাকি অংশ থেকে রড ও ইট খুলে বিক্রি শুরু করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মহুব্বর রহমানসহ যারা এই কাজে জড়িত তাদের রড ও ইট বিক্রি থেকে বিরত রাখেন।

উলিপুরের ইউএনও আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেছেন, কোনো দরপত্র ছাড়া বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বা সরকারি কোনো সম্পত্তির রড, ইট বা অন্য কিছু বিক্রি করা যাবে না। তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *